মাহবুব আলম মিনার। ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের আলীখালী সীমান্তে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী কিংবা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির গুলিতে অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নাফ নদী সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আহতরা নাফ নদীতে মাছ ধরা কিংবা নদী সংলগ্ন ঘেরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় মিয়ানমার দিক থেকে হঠাৎ গুলিবর্ষণ শুরু হলে তারা গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় গত কয়েকদিন ধরেই চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান তীব্র সংঘর্ষের প্রভাব বাংলাদেশ সীমান্তেও ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। আলীখালীতে সংঘটিত এই ঘটনা সেই উত্তেজনারই একটি ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হলো—দেশ যখন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় সীমান্তে এমন সশস্ত্র উসকানি দেশের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকালীন সময়কে ঘিরে সীমান্তে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা বাংলাদেশের জন্য নতুন কোনো বিষয় নয়, তবে এবারের পরিস্থিতি আরও বেশি উদ্বেগজনক।
ঘটনার পরপরই বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) আলীখালী ও আশপাশের সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সীমান্তবর্তী এলাকায় চলাচলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলেও মিয়ানমার অংশ থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অপতৎপরতা বন্ধে কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ দৃশ্যমান নয়। সীমান্তে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক ও সামরিক—উভয় পর্যায়েই জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।