মোহাম্মদ আরমান। ১ এপ্রিল ২০২৬
কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং এলাকায় গভীর রাতে বাজার থেকে দুই যুবককে তুলে নিয়ে সারারাত আটকে রেখে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বনবিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং আইন প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ‘মামলার ভয়’ দেখিয়ে অস্ত্রের মুখে জনপ্রতি ৮ হাজার টাকা আদায় করা হয়। পরদিন সকালে টাকা নেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৫ মার্চ রাত আনুমানিক ২টার দিকে থোয়াইংগাকাটা বাজারের একটি চায়ের দোকান থেকে হাতির ডেবা এলাকার প্রতিবন্ধী বাবুল ও রমজান আলীকে তুলে নিয়ে যায় বনবিভাগের লোকজন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন রাজারকুল রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা অভিউজ্জমান ও বিট কর্মকর্তা আল ফুয়াদ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কোনো লিখিত নোটিশ বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই তাদের জোরপূর্বক সরকারি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী রমজান আলী বলেন, “আমরা দোকানে বসে ছিলাম। হঠাৎ তারা এসে অস্ত্র দেখিয়ে আমাদের তুলে নেয়। পরে একটি কক্ষে সারারাত আটকে রাখে। সকালে টাকা দেওয়ার পর ছাড়া পাই।”
ঘটনার পর শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী অপর ভুক্তভোগী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
এলাকার ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, বনবিভাগের সদস্যরা কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই দুইজনকে তুলে নেওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন এবং বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে অর্থের বিনিময়ে ছাড় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিট কর্মকর্তা আল ফুয়াদ বলেন, বন থেকে গাছ কাটার সময় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল। পরে তারা চলে যায়, কোনো অর্থ নেওয়া হয়নি।
রেঞ্জ কর্মকর্তা অভিউজ্জমান বলেন, সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হতে পারে, তবে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই।
এ বিষয়ে দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, “সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কাউকে আটক করতে হলে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক। তা না হলে এমন পদক্ষেপ আইনবহির্ভূত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।