April 19, 2026, 9:26 am
শিরোনাম :
মহেশখালীতে বিজয় দিবস ট্রফির ১০ম আসর, লামার মঈদুল ফাহাদ টুর্নামেন্ট সেরা ক্যাম্পের সাব মাঝির বিরুদ্ধে অপহরণ-মুক্তিপণ, সেল্টার বাণিজ্য ও মানবপাচারের অভিযোগ উখিয়ার ১৪ নম্বর ক্যাম্পে আজিজুর রহমানকে ঘিরে ক্ষোভ, তদন্তে প্রশাসন ইসলাম গ্রহণের পর নিখোঁজ কলেজছাত্রী জারা: ‘আমাকে উদ্ধার করুন, ভারতে পাচার করতে পারে’—বার্তার পর নিখোঁজ মিয়ানমারে ৭৮ লাখ ইয়াবা জব্দ: বাংলাদেশে পাচারের টার্গেট, নেপথ্যে RSO জড়িতের অভিযোগ নরসিংদীতে ২২ বছর পর গঠিত ছাত্রদল কমিটির সভাপতি বিবাহিত অভিযোগে সড়কে আগুন লাগিয়ে প্রতিবাদ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘর ভাঙা ঘিরে তাণ্ডব, মোবাইল কেড়ে নিতে গিয়ে নারীর শরীরে হাত—সিআইসির বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ হাম ফিরে আসছে নীরবে: স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে নতুন প্রজন্ম নব মুসলিম মায়ের বুক খালি করে নেওয়া শিশু ফিরল কোলে—মানবিক উদ্যোগে শেষ হলো দেড় মাসের কান্না দৈনিক ‘আমাদের কক্সবাজার’ এর মফস্বল সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ পেলেন মোঃ ওসমান গনি ইলি রামুতে রাতে দুই যুবক তুলে নিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, বনবিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ঈদে রোহিঙ্গাদের ভিড়ে মুখর ঘুমধুম সীমান্ত সড়ক জন্মভূমি আরাকান চোখের সামনে—ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাড়ছে রোহিঙ্গাদের

Reporter Name

মাহবুব আলম মিনার। ২৭ মার্চ ২০২৬ শুক্রবার

মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম এলাকার চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সড়কটি ঈদ কে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। চার লেন বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন এই সড়কটি এখন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য এক অনন্য আকর্ষণের স্থানে পরিণত হয়েছে। শূন্য কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কের একপাশে বিস্তীর্ণ রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং অন্য পাশে দৃশ্যমান মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চল—যা তাদের আবেগে নাড়া দিচ্ছে প্রতিনিয়ত।
ঈদের দিন সকাল থেকেই বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে দলে দলে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও তরুণ-তরুণীরা এই সড়কে ভ্রমণে আসছেন। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা পরিণত হচ্ছে জনসমুদ্রে। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসে দাঁড়িয়ে দূর থেকে দেখছেন নিজেদের জন্মভূমি, স্মৃতিচারণ করছেন হারানো অতীতের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে রোহিঙ্গাদের চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ থাকলেও এই সড়কটি তাদের জন্য তুলনামূলকভাবে একটি ‘নিরাপদ ভিউ পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে কক্সবাজার শহরে যাওয়ার ঝুঁকি এড়িয়ে তারা সীমান্তঘেঁষা এই এলাকাতেই সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।
সীমান্ত বিষয়ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সড়কটি শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, মানবিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাদের মতে, “নিজেদের জন্মভূমি চোখের সামনে দেখতে পাওয়া রোহিঙ্গাদের মনে প্রত্যাবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ও দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।”
তবে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছেন।
সব মিলিয়ে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সীমান্তের নৈকট্য এবং আবেগঘন বাস্তবতার সমন্বয়ে ঘুমধুমের চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সড়কটি এখন ঈদে রোহিঙ্গাদের জন্য এক ব্যতিক্রমী আনন্দ ও অনুভূতির মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা