মাহবুব আলম মিনার। ২৭ মার্চ ২০২৬ শুক্রবার
মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম এলাকার চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সড়কটি ঈদ কে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। চার লেন বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন এই সড়কটি এখন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য এক অনন্য আকর্ষণের স্থানে পরিণত হয়েছে। শূন্য কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কের একপাশে বিস্তীর্ণ রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং অন্য পাশে দৃশ্যমান মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চল—যা তাদের আবেগে নাড়া দিচ্ছে প্রতিনিয়ত।
ঈদের দিন সকাল থেকেই বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে দলে দলে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও তরুণ-তরুণীরা এই সড়কে ভ্রমণে আসছেন। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা পরিণত হচ্ছে জনসমুদ্রে। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসে দাঁড়িয়ে দূর থেকে দেখছেন নিজেদের জন্মভূমি, স্মৃতিচারণ করছেন হারানো অতীতের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে রোহিঙ্গাদের চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ থাকলেও এই সড়কটি তাদের জন্য তুলনামূলকভাবে একটি ‘নিরাপদ ভিউ পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে কক্সবাজার শহরে যাওয়ার ঝুঁকি এড়িয়ে তারা সীমান্তঘেঁষা এই এলাকাতেই সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।
সীমান্ত বিষয়ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সড়কটি শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, মানবিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাদের মতে, “নিজেদের জন্মভূমি চোখের সামনে দেখতে পাওয়া রোহিঙ্গাদের মনে প্রত্যাবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ও দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।”
তবে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছেন।
সব মিলিয়ে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সীমান্তের নৈকট্য এবং আবেগঘন বাস্তবতার সমন্বয়ে ঘুমধুমের চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সড়কটি এখন ঈদে রোহিঙ্গাদের জন্য এক ব্যতিক্রমী আনন্দ ও অনুভূতির মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে।