শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
শাকুর মাহমুদ চৌধুরী স্টাফ রিপোর্টার
কক্সবাজারের উখিয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে দায়ের কোপে গুরুতর আহত করেছে মাদকসেবী এক যুবক। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নিদানিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন রাত ৮টার দিকে নিদানিয়ার মইনুর রশিদ (১৭) নামে এক যুবকের সঙ্গে মাদকসেবী আইয়াজের বাগবিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি মিটে গেলেও দুই ঘণ্টা পর আইয়াজ দেশীয় অস্ত্র (দা ও ছুরি) নিয়ে মইনুর রশিদের পিতা ছৈয়দ হোসেনের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়।
এসময় বাধা দিতে গেলে ছৈয়দ হোসেনকে (৫০) কিল-ঘুষি মারে আইয়াজ। স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে আইয়াজ তার স্ত্রী জমিলা আক্তারকে (৪৫) দায়ের কোপে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় জমিলা আক্তারকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তার মাথায় গুরুতর আঘাতজনিত কারণে সিটি স্ক্যান করা হচ্ছে।
আহত নারীর দেবর ও জাতীয় দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার কক্সবাজার প্রতিনিধি মাহবুব আলম মিনার বলেন,
> “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমার ভাতিজার সঙ্গে আইয়াজের সামান্য ঝগড়া হয়েছিল। সেটিকে কেন্দ্র করে আমার ভাই ও ভাবির ওপর এমন হামলা মেনে নেওয়া যায় না। আইয়াজ একজন পরিচিত মাদকসেবী। এ ধরনের যুবকদের কারণেই সমাজে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে।”
অন্যদিকে আহতের আরেক ছোট ভাই ছৈয়দ আকবর বলেন,
> “হামলার সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। আইয়াজের বয়স মাত্র ২৮ বছর, অথচ সে এলাকার বড়দেরও সম্মান করে না। মাদকসেবীরা সমাজে ভালো কিছু করতে পারে না—এই ঘটনাই তার প্রমাণ।”
আহত ছৈয়দ হোসেন (৫০) মৃত আব্দুর রশিদের পুত্র এবং তার স্ত্রী গুরুতর আহত গৃহবধূ জমিলা আক্তার (৪৫)। হামলাকারী আইয়াজ (২৮) নুরুল আমিন প্রকাশ নুরু ও সাজেদা বেগমের ছেলে।
ঘটনার পর থেকে আইয়াজ পলাতক রয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
📍উল্লেখ্য: স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মাদকাসক্ত যুবকদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে। তুচ্ছ ঘটনা বড় সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
এ বিষয় উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক তানভীর শাহরিয়ার বলেন, উখিয়ার উপকূলে প্রতিনিয়ত হত্যা, অপহরণ, মানবপাচার, দখলবাজি, ইয়াবা, ধর্ষণ, গুমের মতো ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে।
এছাড়াও সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গণমাধ্যম কর্মীও অনিরাপদ রয়েছে।