মাহবুব আলম মিনার। ৭ এপ্রিল ২০২৬
আরাকান অঞ্চলে অভিযানে তিনজন আটক; জিজ্ঞাসাবাদে মিলেছে বাংলাদেশমুখী পাচার পরিকল্পনার তথ্য—সীমান্তে আতঙ্ক, কঠোর পদক্ষেপের দাবি
মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চলে বড় ধরনের মাদকবিরোধী অভিযানে ৭৮ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। এ সময় তিনজন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জব্দ হওয়া এই বিপুল পরিমাণ মাদক বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।
দেশটির জান্তা সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গত ৪ এপ্রিল নাটমক টাউনশিপ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে দুটি গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা ইয়াবার বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি ৩ লাখ টাকা (প্রায় ১১.৭ বিলিয়ন কিয়াট) বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এই চালানটি সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর পরিকল্পনা ছিল। এ ঘটনায় রোহিঙ্গা সলিডারেটি অর্গানাইজেশন (RSO)-এর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সংগঠনটির কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি—মাস্টার আইয়ুব, আবুল কাশেম, আবুল ফয়েজ ও আমজাদ—এই পাচার চক্রের মূল সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
মিয়ানমারের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আরাকান অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠী ও কিছু রোহিঙ্গা সংগঠনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে, যা মূলত মাদক পাচারকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নিয়মিতভাবে ইয়াবা, আইসসহ বিভিন্ন মাদক এবং অন্যান্য চোরাচালান বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক মাদকচক্রের কারণে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এতে বিপুল সংখ্যক তরুণ ও যুবসমাজ মাদকাসক্তির ঝুঁকিতে পড়ছে।
এ ঘটনার পর সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, মাদক পাচারের রুটগুলো দ্রুত বন্ধ করতে না পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তারা সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে সীমান্তসংলগ্ন এলাকাগুলোর সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত। অভিযোগ রয়েছে, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কথা বললেই গুমের হুমকি দেওয়া হয়। ফলে অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, কিছু সংগঠনের প্রতি তাদের দেশে ফিরতে পারার আস্থা রয়েছে। তারা দাবি করেন, অধিকাংশ সাধারণ রোহিঙ্গা নিজেদের ভবিষ্যৎ ও অধিকার আদায়ের প্রশ্নে ভিন্ন কয়েকটি সংগঠনের ওপর বেশি নির্ভরশীল। যেমন ARA,ARSA এই দুই সংগঠন কে তারা পুরোপুরি মুক্তিকামী সংগঠন বলে দাবী করে। RSO র বিরুদ্ধে সাধারণ রোহিঙ্গাদের অনেক অভিযোগ ও ক্ষোভের প্রকাশ মিলেছে।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক মাদকচক্র ভেঙে দিতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।