April 17, 2026, 6:54 am
শিরোনাম :
ইসলাম গ্রহণের পর নিখোঁজ কলেজছাত্রী জারা: ‘আমাকে উদ্ধার করুন, ভারতে পাচার করতে পারে’—বার্তার পর নিখোঁজ মিয়ানমারে ৭৮ লাখ ইয়াবা জব্দ: বাংলাদেশে পাচারের টার্গেট, নেপথ্যে RSO জড়িতের অভিযোগ নরসিংদীতে ২২ বছর পর গঠিত ছাত্রদল কমিটির সভাপতি বিবাহিত অভিযোগে সড়কে আগুন লাগিয়ে প্রতিবাদ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘর ভাঙা ঘিরে তাণ্ডব, মোবাইল কেড়ে নিতে গিয়ে নারীর শরীরে হাত—সিআইসির বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ হাম ফিরে আসছে নীরবে: স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে নতুন প্রজন্ম নব মুসলিম মায়ের বুক খালি করে নেওয়া শিশু ফিরল কোলে—মানবিক উদ্যোগে শেষ হলো দেড় মাসের কান্না দৈনিক ‘আমাদের কক্সবাজার’ এর মফস্বল সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ পেলেন মোঃ ওসমান গনি ইলি রামুতে রাতে দুই যুবক তুলে নিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, বনবিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন পাহাড়ি জীবনের ঐতিহ্য: লাউ থেকে তৈরি প্রাকৃতিক পানির কলসি উখিয়ার গর্ব, প্রবীণ সাংবাদিক এইচ এম এরশাদ আর নেই- সাংবাদিক অঙ্গনে শোকের ছায়া

চীন–ইতালি–তুরস্ক থেকে আধুনিক অস্ত্র সংযোজনে নেটওয়ার্ক-ভিত্তিক যুদ্ধে প্রবেশের পথে বাংলাদেশ

Reporter Name

শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

চীন থেকে প্রায় ২২০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে ২০টি জে-১০সি মাল্টিরোল ফাইটার জেট কেনার প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬–২০২৭ সালের মধ্যে এসব আধুনিক যুদ্ধবিমান বাংলাদেশে সরবরাহ শুরু হতে পারে।

একইসঙ্গে ইতালি থেকে আনুমানিক ২৫০ কোটি ডলারে ১৬টি ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান সংগ্রহের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে আগ্রহপত্রে (LOI) সই করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এছাড়া তুরস্ক থেকে ৬টি অ্যাটাক হেলিকপ্টার ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সংগ্রহের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। চীন থেকে কেনা হবে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা (MANPADS)। এরই মধ্যে তুরস্কের তৈরি বেয়ারাকতার ড্রোন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি ফ্রান্স ও তুরস্কের উন্নত রাডার সিস্টেম সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব নতুন সামরিক সরঞ্জাম যুক্ত হলে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী কার্যত একটি নেটওয়ার্ক-ভিত্তিক যুদ্ধ কাঠামোতে (Network-Centric Warfare) প্রবেশ করবে। এর ফলে রাডার, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, নৌবাহিনীর জাহাজ এবং স্থলবাহিনীর ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা একটি কেন্দ্রীয় কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল (Command & Control) সিস্টেমের মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবে।

স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘ পাল্লার রাডার ব্যবস্থার সমন্বয়ে দেশের আকাশসীমায় ৩৬০ ডিগ্রি নজরদারি ও প্রতিরক্ষা কভারেজ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। জে-১০সি ও ইউরোফাইটার টাইফুনের মতো আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো উন্নত AESA রাডার ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে দৃষ্টিসীমার বাইরেই (BVR Combat) শত্রুকে আঘাত হানতে সক্ষম।

একই সঙ্গে স্থলবাহিনীতে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হওয়ায় দূরপাল্লার টার্গেটে নির্ভুল ও দ্রুত আঘাত হানার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, এই সমন্বিত অস্ত্র ও প্রযুক্তিগত কাঠামো বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ক্ষমতা দেবে, যার প্রভাব আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর রাফাল যুদ্ধবিমানের জন্য বাংলাদেশের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ সহজ থাকবে না; বরং যেকোনো সংঘাতের ঝুঁকি ও ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে।

একইভাবে মিয়ানমারও সীমান্ত এলাকায় আগ্রাসী সামরিক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা। সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রোধ এবং শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ পাবে সুস্পষ্ট কৌশলগত সুবিধা।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে একটি আধুনিক, সমন্বিত ও প্রতিরোধক্ষম সামরিক শক্তিতে রূপ নিচ্ছে—যেখানে যুদ্ধের চেয়ে যুদ্ধ প্রতিরোধই হবে সবচেয়ে বড় সাফল্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা