১১ ডিসেম্বর ২০২৫। মাহবুব আলম মিনার
এফ-১৬ আধুনিকীকরণে ৮,২০০ কোটি টাকার মার্কিন প্যাকেজ পেল পাকিস্তান
দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে এমন একটি সিদ্ধান্তে, পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বহরের রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকীকরণের জন্য ৬৮৬ মিলিয়ন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮,২০০ কোটি টাকা) ফরেইন মিলিটারি সেলস (FMS) প্যাকেজ অনুমোদন করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

এই প্যাকেজটি পাকিস্তান বিমানবাহিনীর (PAF) এফ-১৬ ব্লক–৫২ এবং মিড-লাইফ আপগ্রেড (MLU) ভেরিয়েন্টগুলোর কার্যক্ষমতা ২০৪০ সাল পর্যন্ত নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়া–মধ্যপ্রাচ্য–এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র–পাকিস্তান সামরিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিচ্ছে।

চুক্তির কাঠামো: দুই ভাগে বিভক্ত বিশাল প্যাকেজ
প্যাকেজটি মূলত দুটি অংশে বিভক্ত—
১। মেজর ডিফেন্স ইকুইপমেন্ট (MDE) – মূল্য ৩৭ মিলিয়ন ডলার
২। নন-MDE (সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার, লজিস্টিকস) – মূল্য ৬৪৯ মিলিয়ন ডলার
সব মিলিয়ে আধুনিকায়নের পর পাকিস্তানের এফ-১৬ বহর আরও ১৫–২০ বছর যুদ্ধ-সক্ষম থাকবে।

কোন কোন সরঞ্জাম যুক্ত হচ্ছে?
১। লিংক–১৬ ট্যাকটিক্যাল ডেটা লিংক সিস্টেম (৯২ ইউনিট)
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এটি একটি জ্যামিং-প্রতিরোধী যোগাযোগ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে রিয়েল-টাইম ডেটা শেয়ার সম্ভব। ন্যাটো ও মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে ইন্টারঅপারেবিলিটি বজায় রাখা এবং বিভিআর যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
২। অ্যাভিওনিক্স ও যোগাযোগ আপগ্রেড
AN/APX-126 AIFF
KY-58M ও KIV-78 এনক্রিপশন মডিউল
AN/APQ-10C সিম্পল কি লোডার
উন্নত GPS/INS নেভিগেশন
৩। অস্ত্র ইন্টিগ্রেশন টেস্ট উপকরণ
৬টি Mk-82 নিষ্ক্রিয় বোমা
ADU-891 মিসাইল অ্যাডাপ্টার
৪। সফটওয়্যার ও মিশন প্ল্যানিং
অপারেশনাল ফ্লাইট প্রোগ্রাম (OFP)
জয়েন্ট মিশন প্ল্যানিং সিস্টেম (JMPS)
৫। লজিস্টিকস ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট
কন্ট্রাক্টর ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস
TCG ও IEMP প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ
—
কেন এই প্যাকেজ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ?
১। নেটওয়ার্ক–সেন্ট্রিক ওয়ারফেয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি
লিংক-১৬ যুক্ত হওয়ায় পুরো এফ-১৬ বহর সুরক্ষিত নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে। ডগফাইট, বিভিআর কমব্যাট, রাডার ডেটা শেয়ারিং—সব ক্ষেত্রে পাকিস্তান বাড়তি সুবিধা পাবে।
২। পুরনো বিমানের আয়ুষ্কাল বাড়বে ২০৪০ পর্যন্ত
স্ট্রাকচারাল ও অ্যাভিওনিক্স আপগ্রেডের মাধ্যমে বিমানের কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
৩। ভূরাজনৈতিক বার্তা
ট্রাম্প প্রশাসনের এই অনুমোদন দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন বার্তা দিল—যুক্তরাষ্ট্র এখনও পাকিস্তানের এফ-১৬ সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে ভারতের দিকে নজর রেখে প্যাকেজে কোনো নতুন মিসাইল বা রাডার অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
—
বাংলাদেশ কোন পথে যেতে পারে?
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান যেভাবে চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে জাতীয় স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে—সেটি একটি সফল কূটনৈতিক উদাহরণ।
বাংলাদেশ চাইলে নিজস্ব স্বার্থ অগ্রাধিকার দিয়ে তিন পরাশক্তির (চীন–যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়া) সঙ্গে সমান দূরত্বে শক্তিশালী ভূরাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারতো। কিন্তু দেশে নির্বাচন, চুক্তি, যাচাই–নিরীক্ষা, এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সিদ্ধান্তগুলো দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে ভূরাজনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আরও আগ্রাসী ও বাস্তববাদী কূটনীতি চালাতে হবে।