April 17, 2026, 6:49 am
শিরোনাম :
ইসলাম গ্রহণের পর নিখোঁজ কলেজছাত্রী জারা: ‘আমাকে উদ্ধার করুন, ভারতে পাচার করতে পারে’—বার্তার পর নিখোঁজ মিয়ানমারে ৭৮ লাখ ইয়াবা জব্দ: বাংলাদেশে পাচারের টার্গেট, নেপথ্যে RSO জড়িতের অভিযোগ নরসিংদীতে ২২ বছর পর গঠিত ছাত্রদল কমিটির সভাপতি বিবাহিত অভিযোগে সড়কে আগুন লাগিয়ে প্রতিবাদ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘর ভাঙা ঘিরে তাণ্ডব, মোবাইল কেড়ে নিতে গিয়ে নারীর শরীরে হাত—সিআইসির বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ হাম ফিরে আসছে নীরবে: স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে নতুন প্রজন্ম নব মুসলিম মায়ের বুক খালি করে নেওয়া শিশু ফিরল কোলে—মানবিক উদ্যোগে শেষ হলো দেড় মাসের কান্না দৈনিক ‘আমাদের কক্সবাজার’ এর মফস্বল সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ পেলেন মোঃ ওসমান গনি ইলি রামুতে রাতে দুই যুবক তুলে নিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, বনবিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন পাহাড়ি জীবনের ঐতিহ্য: লাউ থেকে তৈরি প্রাকৃতিক পানির কলসি উখিয়ার গর্ব, প্রবীণ সাংবাদিক এইচ এম এরশাদ আর নেই- সাংবাদিক অঙ্গনে শোকের ছায়া

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ডি-২, ডি-৩ ও ডি-৪ ব্লকে পুড়ে ছাই প্রায় ৭২০ ঘর, সন্ত্রাসী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ!

Reporter Name

শাকুর মাহমুদ চৌধুরী। উখিয়া (কক্সবাজার):

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নে অবস্থিত ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় লাগা আগুনে ক্যাম্পের ডি-২, ডি-৩ ও ডি-৪ ব্লকের অন্তত ৭২০টি ঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা পরিবার এক রাতেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্লকবাসীদের দাবি, সোমবার গভীর রাতে আনুমানিক রাত ২টা ৩০ মিনিটের দিকে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং একের পর এক ঘর পুড়ে যেতে থাকে। ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্প হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

যদিও তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগানোর সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি, তবে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র এই অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও আধুনিক অস্ত্রের দখলকে কেন্দ্র করে আগেও একাধিকবার সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি, মানবিক বিপর্যয় এই অগ্নিকাণ্ডে ঘরবাড়ির পাশাপাশি রান্নার সামগ্রী, খাদ্য মজুদ, কাপড়চোপড় ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে গেছে। খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মাঝেও আতঙ্ক অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ক্যাম্পসংলগ্ন স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা আশঙ্কা করছেন, এই সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ক্যাম্পের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। রাতে অনেক স্থানীয় পরিবার পাহারা দিয়ে রাত কাটাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি), আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ক্যাম্প এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠন এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা নিয়ে বারবার অগ্নিকাণ্ড ও সন্ত্রাসী তৎপরতায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, সন্ত্রাসী চক্র নির্মূল এবং ক্যাম্পে স্থায়ী নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা