সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার জর্ডান | আই টি এন নিউজ
গত কয়েকদিনের টানা প্রবল বর্ষণে মালয়েশিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ বন্যা। এতে সাতটি রাজ্যে অন্তত ১৪ হাজার মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। সরকারি হিসাবে, ৪ হাজার ৮৪৪টি পরিবারের মোট ১৩ হাজার ৯১৫ জন বন্যার কারণে ঘরছাড়া হয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে (পিপিএস) ঠাঁই নিয়েছেন।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) উপপ্রধানমন্ত্রী ড. আহমদ জাহিদ হামিদি জানান, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে সব নিরাপত্তা ও জরুরি সংস্থাকে পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি জানান, বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় ৬৩টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র সক্রিয় করা হয়েছে এবং ত্রাণ তৎপরতা দ্রুত পরিচালনার জন্য ফেডারেল-রাজ্য-জেলা পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে।
ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (নাদমা) থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত কেলাতান রাজ্যটি বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এদিকে আগামী ২–৩ দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি অনিশ্চিত বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও বন্যা-প্রতিরোধমূলক প্রস্তুতিতে গতিশীল ভূমিকা নিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ফাদলিনা সিদেক জানান, বন্যাপ্রবণ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চলমান মাধ্যমিক বোর্ড পরীক্ষাকে নির্বিঘ্ন রাখা এখন মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত চারটি স্কুল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি শিক্ষার্থীদের হোস্টেলে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া দেখেছি—এটি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা।”
তিনি আরও জানান, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশ, ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ডিপার্টমেন্ট এবং সিভিল ডিফেন্স ফোর্সসহ বিভিন্ন সংস্থা যৌথভাবে জরুরি প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও আশ্বস্ত করেন, বন্যার কারণে আটকে পড়া বা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে অক্ষম পরীক্ষার্থীদের উদ্ধার ও নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিতে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রস্তুত রয়েছে।