April 23, 2026, 8:37 am
শিরোনাম :
উখিয়ায় ঘনঘন লোডশেডিং ও তীব্র গরমে শিক্ষাঙ্গনে নাজুক অবস্থা, এসএসসি-দাখিল পরীক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ! উখিয়ায় পুলিশের জালে একাধিক মামলার পলাতক আসামি টিটু বান্দরবান মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা: নিহত ১, আহত ২ নরসিংদীতে সারা দেশের বন্ধ জুটমিল গুলো চালু করতে কাজ করছে সরকার : বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী নরসিংদীতে আদিয়াবাদ কলেজে ঢুকে অধ্যক্ষের ওপর সন্ত্রাসীদের হামলা ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর কলেজছাত্রী জারা নিখোঁজ, মা-বাবার বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ মহেশখালীতে বিজয় দিবস ট্রফির ১০ম আসর, লামার মঈদুল ফাহাদ টুর্নামেন্ট সেরা ক্যাম্পের সাব মাঝির বিরুদ্ধে অপহরণ-মুক্তিপণ, সেল্টার বাণিজ্য ও মানবপাচারের অভিযোগ উখিয়ার ১৪ নম্বর ক্যাম্পে আজিজুর রহমানকে ঘিরে ক্ষোভ, তদন্তে প্রশাসন ইসলাম গ্রহণের পর নিখোঁজ কলেজছাত্রী জারা: ‘আমাকে উদ্ধার করুন, ভারতে পাচার করতে পারে’—বার্তার পর নিখোঁজ মিয়ানমারে ৭৮ লাখ ইয়াবা জব্দ: বাংলাদেশে পাচারের টার্গেট, নেপথ্যে RSO জড়িতের অভিযোগ

ক্যাম্পের সাব মাঝির বিরুদ্ধে অপহরণ-মুক্তিপণ, সেল্টার বাণিজ্য ও মানবপাচারের অভিযোগ উখিয়ার ১৪ নম্বর ক্যাম্পে আজিজুর রহমানকে ঘিরে ক্ষোভ, তদন্তে প্রশাসন

Reporter Name

মাহবুব আলম মিনার। ১৭ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ার থাইংখালী হাকিমপাড়া ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাব মাঝি আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অপহরণে সহায়তা, মুক্তিপণের টাকা গ্রহণ, অবৈধ সেল্টার বাণিজ্য, মানবপাচার সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নারী নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ সামনে আসার পর ক্যাম্পজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র, ভুক্তভোগী পরিবার ও ব্লকবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে ক্যাম্পের ভেতরে নানা অনিয়ম করে আসছেন অভিযুক্ত সাব মাঝি। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে সাধারণ রোহিঙ্গাদের ভয় দেখিয়ে নিজের প্রভাব বিস্তার করতেন তিনি। ফলে ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাননি।

অপহরণের পর মুক্তিপণের টাকা মাঝির হাতে!–

১৪ নম্বর ক্যাম্পের ডি-ব্লক, সাব ব্লক-ডি৩ এর বাসিন্দা ছৈয়দ আলম (৪০) অভিযোগ করে বলেন, তাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়া পর্যন্ত তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এখনো তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি–
অপহরণকারীরা জানিয়ে দেয়—টাকা সাব মাঝি আজিজুর রহমানের হাতে দিলেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। পরে পরিবারের সদস্যরা নিরুপায় হয়ে ওই টাকা মাঝির হাতে তুলে দেন। টাকা দেওয়ার পরও বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি অভিযোগ করলে আবারও অপহরণের হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি পরিবারের।

সেল্টার বাণিজ্যে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, মালয়েশিয়াগামী মানবপাচার চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্যাম্পের লোকজনকে সাগরপথে পাঠানোর ব্যবস্থা করতেন অভিযুক্ত মাঝি। পরে যারা ক্যাম্প ছেড়ে চলে যেতেন, তাদের সেল্টার গোপনে অন্যদের কাছে বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকা নিতেন তিনি।

১৪ নাম্বর ক্যাম্পবাসীদের দেওয়া তথ্যমতে, সিআইসির চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন সেল্টার বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই মাঝি আজিজুর রহমান

অভিযোগ উঠেছে ঐ ক্যাম্পের – হেদায়েত উল্লাহর সেল্টার বিক্রি করা হয় এনামুল হাসানকে,মাঝি হাতিয়ে নিয়েছে ২০ হাজার টাকা,দিল কায়েসের সেল্টার বিক্রি থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ৩০ হাজার টাকা,এনামুল্লা সেল্টার বিক্রি থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ৪০ হাজার টাকা,আসাদুল্লাহ সেল্টার বিক্রি করা হয় মোহাম্মদ তৈয়বকে, ঐখান থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ৬০ হাজার টাকা, ঐ ক্যাম্পের তৈয়ব তার এক স্বজনের কাছে সেল্টার বিক্রি করলে মাঝি নিয়েছে ৬০ হাজার টাকা,লুলু রহমানের ছেলে তৈয়ব
সেল্টার বিক্রি করে সলিমুল্লাহর ছেলে আসাদুল্লাহকে মাঝি হাতিয়ে নিয়েছে ৫০ হাজার টাকা, এভাবেই আরোও অনেকর কাছ থেকে হাতিয়ে নিলেও তারা তার ভয়ে ক্যামরার সামনে মুখ খুলতে পারছে না বলে জানান।
সাব মাঝি আজিজুর রহমানের স্ত্রী সন্তান থাকার পরও এক নারীকে জিম্মি করে তার পরিবার কে ভয় দেখিয়ে তুলে এনে জোরপূর্বক বিয়ের অভিযোগ রয়েছে, ঐ নারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তুলে এনে জোরপূর্বক বিয়ে করে সংসার করছেন আজিজুর রহমান। এছাড়া তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় কয়েকজন নারীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তার অশ্লীল আচরণের ভয়েস রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংগ্রহ রয়েছে।

প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তার

স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করা, চা-আড্ডা দেওয়া কিংবা পরিচিতির ছবি দেখিয়ে নিজেকে প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন মাঝি । এরপর ব্লকবাসীদের বলে বেড়ায়—তার বিরুদ্ধে গেলে কেউ রক্ষা পাবে না। এভাবেই দীর্ঘদিন ভয়ভীতি সৃষ্টি করে নিজের অবস্থান শক্ত করে রেখেছে ।

মাঝি আজিজুর রহমানের
এসব অভিযোগ নিয়ে ক্যাম্পবাসীরা ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) ফখরুল ইসলামের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে এপিবিএনসহ কয়েকটি সরকারি সংস্থাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সিআইসি ফখরুল ইসলাম জানান, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।

দ্রুত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসারে ব্যবস্থা চায় সচেতন মহল।

তবে ক্যাম্পবাসীর ক্ষোভ- অভিযোগের এক মাস পার হলেও তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ হয়নি! ব্যবস্তা নিতে সিআইসি বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন এখনো জমা না হওয়ার পেছনে অভিযুক্ত সাব মাঝির গোপন শক্তি কোথায়! —এ নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।

ক্যাম্পের পাশে বসাবাসরত স্থানীয়দের দাবী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপহরণ, মানবপাচার, চাঁদাবাজি ও সেল্টার বাণিজ্য বন্ধ করতে হলে এমন অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় ক্যাম্পে অপরাধ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা