রোহিঙ্গা স্থানান্তর বন্ধ, ভাসানচর প্রকল্প ছিল ‘ভুল সিদ্ধান্ত’
১৪ মাসে কাউকে নেওয়া হয়নি, সরকারের মতে—রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন বিলম্বিত হচ্ছিল
কক্সবাজার, ১২ নভেম্বর ২০২৫ | আই টি এন নিউজ
মাহবুব আলম মিনার
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বাস্তুচ্যুতদের বঙ্গোপসাগরের দ্বীপ ভাসানচরে স্থানান্তর কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শরণার্থী বিষয়ক সেলের প্রধান মো. নাজমুল আবেদীন জানিয়েছেন, গত ১৪ মাসে নতুন করে একজন রোহিঙ্গাকেও সেখানে নেওয়া হয়নি, এবং আপাতত স্থানান্তরের কোনো পরিকল্পনাও নেই।
তিনি বলেন, “আমরা চাই রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাক। তাদের ভাসানচরে রেখে দিলে প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হবে।”
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভাসানচরকে বাসযোগ্য করতে ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রথম দফায় ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গাকে সেখানে পাঠানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় কার্যক্রম। পরিকল্পনা ছিল প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরের।
আরআরআরসি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৭৩১ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে নেওয়া হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে প্রায় সাত হাজার জন পালিয়ে গেছে। যোগাযোগব্যবস্থা জটিল হলেও সেখানে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য বিদ্যমান প্রকল্পগুলো চালু আছে বলে জানিয়েছেন নাজমুল আবেদীন।
ভাসানচরে থাকা রোহিঙ্গা নারী নূর কলিমা বলেন, “সরকার বলেছিল রেশন, দোকান, গবাদিপশু ও চাষের জমি দেবে। কিন্তু এককালীন পাঁচ হাজার টাকা আর সামান্য রেশন ছাড়া কিছুই পাইনি। চিকিৎসাও খুব সীমিত।”
অন্যদিকে বাজার কমিটির সভাপতি নূর মোস্তফা জানান, “এখানে নিরাপত্তা আছে। আরসা বা আরএসও’র মতো সন্ত্রাসী সংগঠনের ভয় নেই, মানুষ শান্তিতে আছে।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার অনুবিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ভাসানচর প্রকল্পকে আন্তর্জাতিক অংশীদাররা শুরু থেকেই সমর্থন করেনি। নতুন সরকার সেই ভুল সংশোধন করেছে।”
তিনি আরও জানান, আগের সরকার রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল, কিন্তু বর্তমান সরকার জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
ভাসানচর বর্তমানে নোয়াখালী জেলার অন্তর্গত, চট্টগ্রাম থেকে সমুদ্রপথে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রায় ৪০ বর্গকিলোমিটারের এই দ্বীপে তৈরি করা হয় ১২০টি গুচ্ছগ্রাম, ১২০টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ। সেখানে রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য আধুনিক ঘর, বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মিত হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, বিশুদ্ধ পানি ও কর্মসংস্থানের ঘাটতি রয়ে গেছে।
বর্তমানে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা সীমিত আকারে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও অধিকাংশ দেশ ভাসানচর প্রকল্পে সরাসরি অর্থায়ন থেকে বিরত রয়েছে।