মাহবুব আলম মিনার। ২৬ মে ২০২৬ মঙ্গলবার
কক্সবাজারের গর্জনিয়ার আলোচিত শাহীন ডাকাতকে ঘিরে আবারও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পরপরই ডিবি পুলিশের একটি টিম তাকে আটক করে সদরে নিয়ে যায়। সোমবার (২৫ মে) কারাগার গেইট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে।
ডিবির ওসি মসিউর রহমান জানান, শাহীনকে আটকের পর কক্সবাজার সদর মডেল থানায় পাঠানো হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও কোন মামলায় তাকে আটক দেখানো হয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, তাদের থানার কোন মামলায় এখনো শাহীনকে আটক দেখানোর সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে সীমান্ত এলাকার স্থানীয়দের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শাহীন ডাকাত জামিনে স্থায়ীভাবে বেরিয়ে আসতে পারলে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তজুড়ে আবারও চোরাচালান, অস্ত্র ও মাদকের বিস্তার ভয়াবহ রূপ নেবে। তাদের ভাষ্য, “শাহীনের মতো কুখ্যাত অপরাধী যদি এত সহজে জামিনে বের হতে পারে, তাহলে সীমান্ত জনপদের মানুষ এক মিনিটের জন্যও শান্তিতে বসবাস করতে পারবে না।”
গোপন সূত্রে জানা গেছে, গর্জনিয়ার স্বশস্ত্র শাহীন বাহিনীর প্রধান শাহীন ডাকাতের সঙ্গে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির একটি গোপন সমঝোতা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তের দুর্গম এলাকা ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন মালামাল পাচার করে আরাকান আর্মির কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো। বিনিময়ে ইয়াবা, আইস ও গরুর চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হতো। দীর্ঘদিন ধরে এই সীমান্ত চোরাচালান ঘিরে একটি বৃহৎ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে শাহীন বাহিনী।
এর আগে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের অভিযানে একই মামলায় একসাথে তিনজন আটক হলেও অন্য আসামিদের জামিনের কোন অগ্রগতি না থাকলেও শাহীন ডাকাত একে একে পাঁচটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কিভাবে শাহীন ধারাবাহিকভাবে জামিন পেল?
আরও জানা গেছে, শাহীনকে জামিনে বের করে আনতে তার বাহিনীর কমান্ডার গর্জনিয়ার বড়বিল এলাকার লেং আবছার গোপনে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। সীমান্ত সূত্রের দাবি, লেং আবছারের সঙ্গে আরাকান আর্মির সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে এবং শাহীনকে মুক্ত করতে বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগানও ওই চক্রের মাধ্যমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, শাহীন আটকের পর থেকে গর্জনিয়া সীমান্ত হয়ে আরাকান আর্মির জন্য সিমেন্ট, অকটেন, সার, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আরাকান আর্মির অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কার্যক্রমে বড় ধাক্কা লেগেছে। তাই যে কোন মূল্যে শাহীনকে জামিনে বের করে এনে পুনরায় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সীমান্তবাসীর দাবি, শাহীন ডাকাত ও তার নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সীমান্তে আবারও অস্ত্র, মাদক ও চোরাচালান পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। একইসাথে তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আরাকান আর্মির সঙ্গে জড়িত সকল গোপন অর্থদাতা ও সহযোগীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।