মাহবুব আলম মিনার। ২৪ মে ২০২৬
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিহতরা সবাই স্থানীয় পাহাড়ি সম্প্রদায়ের বাসিন্দা। এ ঘটনায় সীমান্তজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
রোববার (২৪ মে) সকাল ১১টার দিকে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারের মাঝামাঝি এলাকায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন ঘুমধুম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভালোকীয়া গ্রামের বাসিন্দা অংক্ষ্যমং তংচংগ্যা, চিংক্ষং চাকমা,চোপোচিং চাকমা।
স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, সকালে সীমান্তঘেঁষা এলাকায় নিজেদের কলা বাগানে কলা কাটতে যান কয়েকজন। প্রথমে চোপোচিং চাকমা ও চিংক্ষং চাকমা নামের দুই ব্যক্তি কলা কাটার সময় হঠাৎ একটি স্থলমাইনের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দুজনের পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এসময় খবর পেয়ে অংক্যমং তংচংগ্যা আহতদের উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে গেলে আরও একটি মাইনের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সেও গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ে।
পরে স্থানীয় গ্রামবাসীরা বিজিবির সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে নিয়ে এলেও গ্রামবাসীদের দাবি, তিনজনই ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ঘুমধুমের স্থানীয় বাসিন্দা নুর আলম বলেন, “এর আগেও মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা মাইনের বিস্ফোরণে অনেকেই পা হারিয়েছেন, আবার অনেকের মৃত্যু হয়েছে। সীমান্ত এলাকার মানুষ এখন সবসময় আতঙ্কে থাকে।”
তিনি আরও বলেন, সীমান্তে আরাকান আর্মির এমন তৎপরতা প্রায়ই দেখা যায়। সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।