মাহবুব আলম মিনার – রোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বিশ্বব্যাপী রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ কমে আসছে—এমন বাস্তবতায় ঢাকায় আয়োজিত এক সিম্পোজিয়ামে সাংবাদিক, কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আহ্বান জানিয়েছেন, সংকটকে নতুনভাবে উপস্থাপন করে বৈশ্বিক এজেন্ডায় আনতে হবে। আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠককে সামনে রেখে তাঁরা জোর দেন গণমাধ্যমের সমাধানমুখী ভূমিকার ওপর।
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি), অক্সফাম ইন বাংলাদেশ এবং ডেভেলপমেন্ট মিডিয়া ফোরাম যৌথভাবে শনিবার রাজধানীতে আয়োজন করে “শিরোনামের বাইরে: নতুন চোখে রোহিঙ্গা সংকট” (Beyond Headlines: The Rohingya Crisis Story in Transition) শীর্ষক সিম্পোজিয়াম। এতে ঢাকা ও কক্সবাজারের ৪০ জনের বেশি সাংবাদিক অংশ নেন।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “বাংলাদেশ তার দায়িত্বের চেয়েও বেশি করেছে। এখন বিশ্বকে পদক্ষেপ নিতে হবে—অর্থায়ন, দায়বদ্ধতা ও দায়িত্ব ভাগাভাগির মাধ্যমে।” তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর নীতিনির্ধারণের জায়গায় পৌঁছে।
পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, “রোহিঙ্গারা কোনো পরিসংখ্যান নয়। তারা মানুষ, ইতিহাস ও সংস্কৃতি বহন করছে। তাঁদের মর্যাদা হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।”
অক্সফাম ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আশীষ দামলে মন্তব্য করেন, “রোহিঙ্গা সংকট কেবল বাংলাদেশের নয়, এটি বৈশ্বিক সংকট। নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন সম্ভব না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিকদের দায়িত্ব সংকটকে জীবিত রাখা।”
দিনব্যাপী আয়োজনে তিনটি টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, মিয়ানমারে নাগরিকত্ব স্বীকৃতি ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া প্রত্যাবাসন কার্যত অসম্ভব। এ ছাড়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অসহিষ্ণুতা ও সাহায্য কমে আসার ফলে এলাকায় অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়ছে।
সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও বিশ্লেষকেরা মত দেন—রোহিঙ্গা ইস্যু এখন শুধু মানবিক সংকট নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও কূটনৈতিক ভারসাম্যের বড় চ্যালেঞ্জ।
সমাপনী সেশনে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, গণমাধ্যমের দায়িত্ব হচ্ছে হতাশার গল্পের বাইরে গিয়ে টিকে থাকার সংগ্রাম, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও সমাধানের পথ বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা। এ ধরনের সাংবাদিকতাই আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ ও বৈশ্বিক আলোচনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।