২১ অক্টোবর ২০২৫, মঙ্গলবার
মাহবুব আলম মিনার
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশফাড়ি সীমান্তে সারারাত ধরে চলেছে ভয়াবহ গোলাগুলি। মিয়ানমারের ভেতরে আরাকান আর্মি (AA) ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের পর থেকে সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাড়ি এলাকার ৩৬ নম্বর সীমান্ত পিলার সংলগ্ন মিয়ানমারের ভেতরে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে অন্তত দুই শতাধিক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়।
★স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক
ঘুমধুমের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলম জানান
> “হঠাৎ করেই সীমান্তের ওপার থেকে গুলির শব্দ আসতে শুরু করে। আতঙ্কে অনেকেই ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেন। কেউ কেউ সারা রাত জেগে কাটিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন,
> “রাখাইন রাজ্যের সীমান্ত এলাকায় আরাকান আর্মি এবং রোহিঙ্গা সংগঠন আরসা, আরএসও, এআরএ ও ইসলামিক মাহাজসহ একাধিক গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, উভয় পক্ষের হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।”
★সীমান্তে সতর্ক অবস্থায় বিজিবি
কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম খায়রুল আলম বলেন,
> “মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মিটার ভেতরে সংঘর্ষের শব্দ শোনা গেছে। সম্ভবত রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার গোলাগুলিই এর কারণ।”
★তিনি সীমান্তবাসীদের আশ্বস্ত করে আরও বলেন,
> “বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে বাড়তি নজরদারি চলছে। বাংলাদেশের ভেতরের পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক।”
★উত্তেজনা বাড়ছে সীমান্তজুড়ে
স্থানীয়রা জানান, মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী পিছু হটার পর আরাকান আর্মি সীমান্তবর্তী কয়েকটি শহর দখল করে । সম্প্রতি রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন তথা রোহিঙ্গা মুক্তিকামী সংগঠন আরসা ও আরএসও ওই এলাকা তথা শহর গুলো তাদের অধিকার আদায়ে লড়াই চালিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়েছে কয়েকটি এলাকা তারা নিয়ন্ত্রণেও এনেছে বলে জানান ।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তেও গোলাগুলির অনুরূপ ঘটনা ঘটে, যা কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী ছিল।
★ সূত্র: স্থানীয় প্রশাসন, সীমান্তবাসী, সীমান্তের সচেতন মহল ও নিরাপত্তা সংস্থা এবং DAILY TIMEZ