উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্ত্রী-সন্তানকে কুপিয়ে হত্যা, আরেক সন্তান আশঙ্কাজনক
অভিযুক্ত স্বামী পলাতক, পারিবারিক কলহের ইঙ্গিত এপিবিএনের
মাহবুব আলম মিনার – কক্সবাজার |৯ জুলাই ২০২৬
কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্ত্রী ও এক সন্তানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক রোহিঙ্গা ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাদের আরেক সন্তান গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী পালিয়ে গেছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোররাত প্রায় ৪ টার দিকে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৬-এর বি-৬ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নুর শহিদ (৩০) ও মোহাম্মদ আফসার (৮)
গুরুত্বর আহত মোহাম্মদ ছলিম(৪) হত্যাকারী – আতাসামুল হক বলেজানা গেছে।
রোহিঙ্গা সংগঠন আরসিপিআর-এর নেতা দিল মোহাম্মদের বরাতে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রথমে তার স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় দুই সন্তান চিৎকার শুরু করলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই স্ত্রী ও এক সন্তানের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অপর সন্তানকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাসপাতালে নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি অবৈধ ইয়াবা কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। তাদের ধারণা, স্ত্রী প্রশাসনকে তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন—এমন সন্দেহ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।
এ বিষয়ে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক কলহের জেরে সংঘটিত ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। একই সঙ্গে পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পজুড়ে আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।