July 12, 2026, 10:37 pm
শিরোনাম :
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কক্সবাজার জেলা কুবি নারী শিক্ষার্থীর বাসায় চুরি, আড়াই ভরি স্বর্ণ ও ৩০ হাজার টাকা লুট/ লামার আজিজনগরে পাহাড়ধসে একই পরিবারের ৫ জনের প্রাণহানি, শোকে স্তব্ধ স্বজনরা টানা বর্ষণে বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি: ৩০৯ মিমি বৃষ্টিতে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, খুলেছে ২২০ আশ্রয়কেন্দ্র উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্ত্রী-সন্তানকে কুপিয়ে হত্যা, আরেক সন্তান আশঙ্কাজনক অভিযুক্ত স্বামী পলাতক, পারিবারিক কলহের ইঙ্গিত এপিবিএনের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের পাহাড় ধস মহিলা মাদ্রাসায় মাটি চাপা পড়ে ৮ জন নিহত, আহত ৯ কুবিতে ‘১১ জুলাই প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে স্থিরচিত্র ও ভিডিও আহ্বান কুবির পাঁচ অনুষদে নতুন ডিন নিয়োগ লামায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের কিশোর ফুটবলারদের মাঝে জেলা প্রশাসকের উপহার ফুটবল বুট বিতরণ লামায় কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন

নিখোঁজের ১২ দিন পর সেফটি ট্যাংকে মিলল রোহিঙ্গা যুবকের গলাকাটা মরদেহ উখিয়ার জামতলী ক্যাম্পে চাঞ্চল্য, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ৩ জন আটক

Reporter Name

মাহবুব আলম মিনার | ৫ জুলাই ২০২৬
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জামতলী ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিখোঁজের ১২ দিন পর আব্দুল হাফেজ (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা যুবকের গলাকাটা মরদেহ একটি বাথরুমের সেফটি ট্যাংক থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহত আব্দুল হাফেজের বাবার নাম নুরুজ্জুহার এবং মায়ের নাম আমেনা খাতুন। তাদের বাড়ি মিয়ানমারের মংডু উপজেলার বাঘঘোনা নুরুল্লাহপাড়া এলাকায়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গত ২২ জুন নিজ দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা আব্দুল হাফেজকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে তার সন্ধান চেয়ে ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) বরাবর লিখিত আবেদন করেন স্বজনরা। অভিযোগের পর সিআইসির নির্দেশনায় এপিবিএন পুলিশ নিখোঁজ যুবককে উদ্ধারে অভিযান শুরু করলেও টানা ১১ দিন তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুলাই রাতে একই ব্লকের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আগের রাতে তারা একজন যুবককে মারধরের শব্দ শুনেছিলেন, যা তাদের কাছে আব্দুল হাফেজের কণ্ঠস্বর বলে মনে হয়েছিল। ওই তথ্যের ভিত্তিতে এলাকাবাসী আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে একটি বাথরুমের সেফটি ট্যাংকের ভেতরে তার মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মরদেহের গলা কাটা ছিল এবং শরীরে কোনো কাপড় ছিল না। ঘটনার পর পুরো ক্যাম্পজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় এবং হত্যার কারণ সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ক্যাম্পের বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত কয়েক মাসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপহরণ, হত্যা ও গুমের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। যদিও এসব ঘটনার কোনো সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি, স্থানীয়দের দাবি, গত তিন মাসে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা দুই শতাধিক হতে পারে।
রোহিঙ্গারা বলছেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অপহরণ, হত্যা ও গুমের মতো অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দারাও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধের নেতিবাচক প্রভাব স্থানীয় সমাজেও পড়ছে। তাই তারা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা জোরদার এবং প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এপিবিএন ও থানা পুলিশ যৌথভাবে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা