নজরুল ইসলাম (লামা, বান্দরবান) প্রতিনিধি। ৫ জুলাই ২০২৬
বান্দরবানের লামায় উঃ নন্দমালা জীনামেজু কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা টিটিএন্ডডিসি জেলা পরিষদ গেস্ট হাউসকে প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে চালু করার মধ্য দিয়ে ভবনটি নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
রবিবার (৫ জুলাই, ২০২৬) লামার টিটিএন্ডডিসি জেলা পরিষদ গেস্ট হাউসে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি, পিএসসি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মঈন উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উঃ নন্দমালা জীনামেজু কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ভদন্ত নন্দমালা মহাথের, সাংবাদিক রুহুল আমিন, লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, গজালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বিশ্বনাথ দে এবং লামা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষক অংথোয়াইহ্লা মার্মা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জীনামেজু অনাথ আশ্রমের জমিদাতাগণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, লামা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান, লামা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বেলাল আহমেদ, লামা সাংবাদিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ, লামা মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক কামালুদ্দিন, সাংবাদিক খগেশ চন্দ্র প্রীতি খোকন, মিরর নিউজের সাংবাদিক নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা টিটিএন্ডডিসি জেলা পরিষদ গেস্ট হাউসের পুরো ভবন এবং প্রতিটি হলরুম পরিদর্শন করেন। পরে প্রধান অতিথি আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কেটে কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের জন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন। উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গেস্ট হাউস প্রাঙ্গণে দুটি গাছের চারা রোপণ করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০১৩ সালে নির্মিত টিটিএন্ডডিসি জেলা পরিষদ গেস্ট হাউসটি দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। সাংবাদিক রুহুল আমিনের সহযোগিতায় ভবনটি পাঁচ বছরের জন্য লিজ নিয়ে উঃ নন্দমালা জীনামেজু কল্যাণ ট্রাস্ট এখানে নিয়মিত কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে এলাকার যুবক-যুবতী, সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আয়োজকরা জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আশিকুর রহমান আশিক বলেন, “এমন যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে অনেক দূর এগিয়ে যাবে এবং এলাকার অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও বেকার যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” তিনি প্রতিষ্ঠানের এ মহৎ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মঈন উদ্দিন বলেন, “এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ভদন্ত নন্দমালা মহাথের বলেন, “আমার নিজস্ব কোনো জায়গা-জমি, সম্পত্তি কিংবা আত্মীয়-স্বজন নেই। সমাজের অসহায়, এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। আমার যতটুকু সামর্থ্য আছে, তা দিয়েই আমি এই প্রতিষ্ঠানকে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাব।”
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সার্বিক সফলতা কামনা করেন। আয়োজকরা জানান, পাঁচ বছরের লিজ মেয়াদে এই কেন্দ্র থেকে নিয়মিত কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে, যা লামা উপজেলার দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।