স্টাফ রিপোর্টার মোঃমোরশেদ আলম চৌধুরী
টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলা শহরসহ সাত উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। প্লাবিত হয়েছে সহস্রাধিক ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা। পানিবন্দি মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে শুরু করেছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে জেলা আবহাওয়া অফিস, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলা শহরের শেরেবাংলা নগর, আর্মিপাড়া, মেম্বারপাড়া, ইসলামপুর, উজানীপাড়া ও মধ্যমপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে নাইক্ষ্যংছড়ি, রোয়াংছড়ি, লামা ও আলীকদম উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাও বন্যাকবলিত হয়েছে। জেলার সাত উপজেলায় হাজারো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
অব্যাহত বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে। এতে বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রুমা–থানচি, লামা–সূয়ালক সড়কসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কে ছোট-বড় পাহাড়ধসের কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়াতে পাহাড়ের ঢালে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে জেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়া জেলার ৩৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাইক্লোন সেন্টারে মোট ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং প্রশাসনের জরুরি কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে।
বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাকখালী নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সনাতন কুমার মন্ডল বলেন, “মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার বৃষ্টিপাতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”
জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, “অবিরাম বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীতীরবর্তী ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাইকিং করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র এবং প্রশাসনের জরুরি কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক চালু রয়েছে।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না বের হওয়ার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে