July 12, 2026, 10:39 pm
শিরোনাম :
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কক্সবাজার জেলা কুবি নারী শিক্ষার্থীর বাসায় চুরি, আড়াই ভরি স্বর্ণ ও ৩০ হাজার টাকা লুট/ লামার আজিজনগরে পাহাড়ধসে একই পরিবারের ৫ জনের প্রাণহানি, শোকে স্তব্ধ স্বজনরা টানা বর্ষণে বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি: ৩০৯ মিমি বৃষ্টিতে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, খুলেছে ২২০ আশ্রয়কেন্দ্র উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্ত্রী-সন্তানকে কুপিয়ে হত্যা, আরেক সন্তান আশঙ্কাজনক অভিযুক্ত স্বামী পলাতক, পারিবারিক কলহের ইঙ্গিত এপিবিএনের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের পাহাড় ধস মহিলা মাদ্রাসায় মাটি চাপা পড়ে ৮ জন নিহত, আহত ৯ কুবিতে ‘১১ জুলাই প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে স্থিরচিত্র ও ভিডিও আহ্বান কুবির পাঁচ অনুষদে নতুন ডিন নিয়োগ লামায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের কিশোর ফুটবলারদের মাঝে জেলা প্রশাসকের উপহার ফুটবল বুট বিতরণ লামায় কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের পাহাড় ধস মহিলা মাদ্রাসায় মাটি চাপা পড়ে ৮ জন নিহত, আহত ৯

Reporter Name

উখিয়া (কক্সবাজার), ৮ জুলাই ২০২৬ | মাহবুব আলম মিনার

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে একটি মহিলা মাদ্রাসা মাটির নিচে চাপা পড়ে ৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মাদ্রাসার ৭ জন ছাত্রী এবং পাশের একটি ঘরের এক নারী রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৯ জন। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরের পর মসজিদে কোবা মহিলা মাদ্রাসায় ক্লাস চলাকালে আকস্মিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাহাড় ধসে মাদ্রাসার ভবনটি মুহূর্তেই মাটিচাপা পড়ে যায়। এ সময় ভেতরে থাকা ছাত্রীরা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের রোহিঙ্গারা, স্বেচ্ছাসেবক ও সিপিপি সদস্যরা দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে একে একে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকেই ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ক্যাম্পবাসীরা জানান, টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণে ক্যাম্পজুড়ে পানি জমে রয়েছে। পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারেনি। ফলে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ব্যাপক ঝুঁকির সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণেই এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের ধারণা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) মুঠোফোনে বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক, সিপিপি সদস্য ও সংশ্লিষ্টরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, পাহাড় কেটে বসতি নির্মাণ এবং গাছপালা না থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে। তারা পাহাড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ বসতি দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রোহিঙ্গাদের অনেকেই জানান, শরণার্থী শিবিরের জীবন অত্যন্ত কষ্টকর ও অনিশ্চয়তায় ভরা। তারা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে দ্রুত নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে চান।
এর আগে, গত দুই দিনে থাইংখালী-জামতলী এবং ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মরাগাছতলা এলাকায় পৃথক পাহাড় ধসে একই পরিবারের সদস্যসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সর্বশেষ কুতুপালংয়ের এ ঘটনায় কক্সবাজারে টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণে পাহাড় ধস ও সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা