মাহবুব আলম মিনার সম্পাদক আই টি এন নিউজ ।সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের সংস্কৃতি অঙ্গন ও সামরিক জীবনের দুই ভিন্ন মঞ্চে সমান দক্ষতায় আলো ছড়ানো এক অনন্য ব্যক্তিত্বের নাম ক্যাপ্টেন (অব.) হাসান মাসুদ। যুদ্ধের শৃঙ্খলিত জীবনের পর ক্যামেরার সামনে অভিনয়ে দুর্দান্ত উপস্থিতি—এই দুই বিপরীত জগৎ যেন সুন্দরভাবে মিলেছে তার জীবনগাথায়।
বরিশালের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা হাসান মাসুদ কৈশোরে ঢাকায় পা রাখেন। এরপর ১৯৮৩ সালে তিনি যোগ দেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে, ১৯৮৪ সালের ২১ ডিসেম্বর তিনি ১১তম বিএমএ দীর্ঘ কোর্স থেকে পদাতিক কর্পসে কমিশন লাভ করেন। সেনাবাহিনীর গর্বিত ইউনিট ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট—‘বেবী টাইগার্স’—এর একজন সাহসী সদস্য হিসেবে পরিচিতি পান তিনি।
শৃঙ্খল, সততা, কঠোর পরিশ্রম আর দায়িত্ববোধে উজ্জ্বল এই অধ্যায়টি তিনি শেষ করেন ১৯৯২ সালে, ক্যাপ্টেন হিসেবে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে। সামরিক জীবনের প্রতি তার নিষ্ঠা আজও অনেকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
অবসরের পর শুরু হয় জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়—ক্যামেরার সামনে নতুন এক যাত্রা। প্রথমে সাংবাদিকতা। ‘নিউজ নেশন’ ও ক্রীড়া প্রতিবেদক হিসেবে কাজের পর তিনি যোগ দেন ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এ। ২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা তাকে মানুষের গল্প, বাস্তবতা ও আবেগের আরও কাছে নিয়ে যায়।
এই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে তার অভিনয়ের ভাষা বদলে দেয়—তার অভিনয় হয়ে ওঠে স্বতঃস্ফূর্ত, জীবন্ত, মানবিক। সাধারণ মানুষের গল্প থেকে উঠে আসা চরিত্রগুলো তিনি ফুটিয়ে তুলেছিলেন অনন্য দক্ষতায়, যার জন্যই তিনি অল্প সময়েই দর্শকপ্রিয় অভিনেতায় পরিণত হন।
বর্তমানে অসুস্থ হয়ে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন হাসান মাসুদ।
দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করা এই সৈনিক এবং শিল্প-সংস্কৃতির প্রিয়মুখের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন তার অসংখ্য ভক্ত, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
আমরা সবাই তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনায় এক হই। আমিন।