মাহবুব আলম মিনার। ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে গুলিবর্ষণ ও সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় মানুষের জীবন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মিয়ানমার অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতের প্রভাব দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ সীমান্তে এসে পড়ছে। সম্প্রতি লম্বাবিল এলাকায় গুলির শব্দ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক ও জেলেসহ সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ পরিস্থিতিতে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা সরকারের কাছে আট দফা দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
এই বর্বর ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা; বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকার নিরীহ জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; সীমান্তে গোলাগুলি ও সহিংসতা বন্ধে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ; শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ জীবন নিশ্চিতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ হস্তক্ষেপ; মানবিকতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ অবস্থান; ‘নিরাপদ সীমান্ত চাই—নিরীহ মানুষের রক্ত চাই না’ স্লোগান বাস্তবায়ন; সরকারি ব্যবস্থাপনায় নাফ নদীতে মাছ ধরার সুযোগ সৃষ্টি; এবং গুলিবিদ্ধ হানিফের উন্নতমানের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
উল্লেখ্য, এর আগেও টেকনাফ ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে একাধিকবার মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের জেরে গোলাগুলি, মর্টার শেল ও মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গত বছর নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় গুলিতে বাংলাদেশি কিশোরী আহত হওয়া, জেলেদের মাইন বিস্ফোরণে পা বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং সীমান্তে প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনায় সীমান্তবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের দাবি, বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে সীমান্তে আরও কঠোর নজরদারি ও কূটনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থান নেওয়া জরুরি। তা না হলে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ও নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।