April 19, 2026, 11:59 am
শিরোনাম :
মহেশখালীতে বিজয় দিবস ট্রফির ১০ম আসর, লামার মঈদুল ফাহাদ টুর্নামেন্ট সেরা ক্যাম্পের সাব মাঝির বিরুদ্ধে অপহরণ-মুক্তিপণ, সেল্টার বাণিজ্য ও মানবপাচারের অভিযোগ উখিয়ার ১৪ নম্বর ক্যাম্পে আজিজুর রহমানকে ঘিরে ক্ষোভ, তদন্তে প্রশাসন ইসলাম গ্রহণের পর নিখোঁজ কলেজছাত্রী জারা: ‘আমাকে উদ্ধার করুন, ভারতে পাচার করতে পারে’—বার্তার পর নিখোঁজ মিয়ানমারে ৭৮ লাখ ইয়াবা জব্দ: বাংলাদেশে পাচারের টার্গেট, নেপথ্যে RSO জড়িতের অভিযোগ নরসিংদীতে ২২ বছর পর গঠিত ছাত্রদল কমিটির সভাপতি বিবাহিত অভিযোগে সড়কে আগুন লাগিয়ে প্রতিবাদ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘর ভাঙা ঘিরে তাণ্ডব, মোবাইল কেড়ে নিতে গিয়ে নারীর শরীরে হাত—সিআইসির বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ হাম ফিরে আসছে নীরবে: স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে নতুন প্রজন্ম নব মুসলিম মায়ের বুক খালি করে নেওয়া শিশু ফিরল কোলে—মানবিক উদ্যোগে শেষ হলো দেড় মাসের কান্না দৈনিক ‘আমাদের কক্সবাজার’ এর মফস্বল সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ পেলেন মোঃ ওসমান গনি ইলি রামুতে রাতে দুই যুবক তুলে নিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, বনবিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

কক্সবাজারে পূর্ণাঙ্গ বার্ন হাসপাতাল হবে কবে: কলাতলীর অগ্নিকাণ্ডে নতুন করে প্রশ্ন

Reporter Name

মোহাম্মদ জুহেব – কক্সবাজার | ৮ রমজান ১৪৪৭ হিজরি (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)

কক্সবাজারের কলাতলীতে নতুন স্থাপিত একটি গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জেলাজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এটি কেবল একটি দুর্ঘটনার খবর নয়—এটি একটি গুরুতর সতর্কবার্তা। প্রশ্ন উঠছে, এত জনবহুল ও সংবেদনশীল পর্যটন এলাকায় কীভাবে গ্যাস পাম্প স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হলো এবং সেই অনুমতির দায়ভার কে নেবে?
কক্সবাজার এখন আর কেবল একটি জেলা শহর নয়; এটি দেশের প্রধান পর্যটন নগরী। বছরে লাখো দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন ঘটে এখানে। জেলায় রয়েছে শত শত হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা। অদূরে মহেশখালীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কুতুবদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা এবং উখিয়া–টেকনাফে প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বসবাস—সব মিলিয়ে পুরো অঞ্চলটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জনঘনবসতিপূর্ণ।
এত বিপুল জনসংখ্যা ও শিল্প-স্থাপনার মাঝেও কক্সবাজারে এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ বার্ন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়নি। চিকিৎসকরা বলছেন, বার্ন দুর্ঘটনার চিকিৎসা সময়নির্ভর। দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক কয়েক ঘণ্টা—যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বলা হয়—এই সময়ের সঠিক চিকিৎসাই রোগীর জীবন-মৃত্যু ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। কিন্তু কক্সবাজারে দগ্ধ রোগীদের এখনো পাঠাতে হয় চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকায়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক সময়ই জটিলতা বেড়ে যায়।
দগ্ধ রোগীদের প্রধান আশ্রয়স্থল দেশের একমাত্র বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান Sheikh Hasina National Institute of Burn and Plastic Surgery। তবে কক্সবাজার থেকে সেখানে পৌঁছাতে সময় ও ব্যয়ের চাপ রোগী ও পরিবারের জন্য বাড়তি দুর্ভোগ সৃষ্টি করে।
কলামিস্ট মোহাম্মদ জুহেব ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, তিন বছর আগে ৮ রমজান দিনে তিনি নিজে শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়ে দীর্ঘ তিন মাস ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার ভাষ্য, “বার্নের যন্ত্রণা শুধু শারীরিক নয়, এটি মানসিক, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনে। একটি পূর্ণাঙ্গ বার্ন হাসপাতাল কোনো বিলাসী প্রকল্প নয়, এটি জীবন রক্ষার মৌলিক অবকাঠামো।”
কলাতলীর মতো পর্যটন এলাকায় গ্যাস পাম্প স্থাপনের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তদন্তের কথা জানানো হলেও সচেতন মহল বলছে, অতীতে বিভিন্ন দুর্ঘটনার পরও দায় নির্ধারণ ও স্থায়ী সমাধানে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কক্সবাজারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও পর্যটননির্ভর জেলায় একটি আধুনিক, সুসজ্জিত বার্ন হাসপাতাল স্থাপন এখন সময়ের দাবি। ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা অনুমোদনের ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা ও কার্যকর তদারকি প্রয়োজন।
জনসচেতনতা ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা না গেলে এমন দুর্ঘটনা আবারও ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা স্থানীয়দের।
কক্সবাজারবাসীর প্রত্যাশা, আর কোনো উৎসবের দিন যেন কারও জীবনে দীর্ঘ হাসপাতালবাসের স্মৃতি হয়ে না থাকে। এখন দেখার বিষয়—এই অগ্নিকাণ্ডের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা