২৭ নভেম্বর ২০২৫, কক্সবাজার। মাহবুব আলম মিনার সম্পাদক আই টি এন নিউজ
কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিনের অফিসে গত ১৭ নভেম্বর দুপুরে হাজির হয় ৫ বছর ৬ মাস বয়সী বুশরা ও তার মা। বিষণ্নতায় আচ্ছন্ন হলেও মিষ্টি চেহারার ছোট্ট এই সোনামনির হৃদয়ে রয়েছে গভীর যন্ত্রণা—হার্টে ছিদ্র। চিকিৎসকের পরামর্শ, যত দ্রুত সম্ভব অস্ত্রোপচার। প্রয়োজন প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা।
পরিবারের আর্থিক অবস্থা একেবারেই দুর্বল। কৃষিকাজ করে এতদিন কষ্টে-সৃষ্টে মেয়ের চিকিৎসা চালিয়ে এসেছেন বুশরার বাবা। কিন্তু এখন আর সে সক্ষমতা নেই। আরো দুঃখের বিষয়—চার বোনের পরিবারে ২০২৪ সালে বুশরার এক বোন হার্টে ছিদ্রজনিত কারণে চিকিৎসা না পেয়ে মারা যায়। সেই বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা থেকেই বুশরার মা লোকমুখে শুনে ছুটে আসেন ইউএনওর অফিসে—বিশ্বাস নিয়ে, হয়তো এখানেই কোনো সমাধান পাওয়া যাবে।
কিন্তু ইউএনও নিলুফা ইয়াসমিনের নিজের কথায়, “তার বিশাল বিশ্বাস আর আমার ক্ষুদ্র সামর্থ্য—মুহূর্তে নিজেকে অসহায় মনে হচ্ছিল। উপজেলা পরিষদের পক্ষেও এত বড় অঙ্কের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়।” তারপরও তিনি বুশরার মাকে আশ্বস্ত করেন—যতটুকু পারেন চেষ্টা করবেন, শুধু দোয়া রাখতে।
এরপর শুরু হয় একান্ত মানবিক প্রচেষ্টা। প্রায় ১০ দিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও এনজিওর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। বুশরার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যান অবিরাম।
অবশেষে মা–বাবার চোখে আবার আলো ফিরল। এক এনজিও বুশরার সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ঢাকা হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে তার অপারেশন করানো হবে বলেও নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ইউএনও নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, “মায়ের দোয়া কখনও বিফলে যায় না। আলহামদুলিল্লাহ, বুশরার চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়ে গেছে। এখনও কয়েকজন সেবাপ্রার্থীর আবেদন পেন্ডিং আছে। আল্লাহকে ভরসা করে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে তাদেরও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারি।”

তিনি সকলের কাছে দোয়া কামনা করে বলেন—
“আল্লাহ যেন সবার জন্য চিকিৎসার পথ সহজ করে দেন।”