মাহবুব আলম মিনার | ২৯ জুলাই ২০২৬
উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপহরণের অভিযোগে নতুন মোড় এসেছে। ছয় দিন নিখোঁজ থাকার পর এক রোহিঙ্গা ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। পুলিশের দাবি, তিনি প্রকৃতপক্ষে অপহরণের শিকার হননি; বরং আর্থিক দেনা পরিশোধ এড়াতে স্ত্রী ও সন্তানদের সহযোগিতায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন।
৮ এপিবিএনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৫ মিনিটে এফডিএমএন ক্যাম্প-১৫-এর ব্লক-সি/০৬-এর বাসিন্দা মো. সাবের (৪৫) নিজ শেড থেকে ৩-৪ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে অপহরণ করেছে বলে প্রচার করা হয়। বিষয়টি জানার পর জামতলী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন।
পরে ভিকটিমের স্ত্রী মাজেদা ক্যাম্প-১৫-এর ক্যাম্প ইনচার্জের (সিআইসি) কাছে স্বামীকে উদ্ধারের আবেদন করেন। অভিযোগটি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জামতলী পুলিশ ক্যাম্পে পাঠানো হলে পুলিশ তদন্ত জোরদার করে।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, পেশায় দোকানদার মো. সাবেরের সঙ্গে ক্যাম্প এলাকায় দৃশ্যমান কোনো বিরোধ বা শত্রুতা ছিল না। এছাড়া কথিত অপহরণের সময় তিনি নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বাসায় রেখে যাওয়ায় তদন্তকারীদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে তার স্ত্রী ও সন্তানদের আচরণও তদন্তে অস্বাভাবিক বলে প্রতীয়মান হয় বলে জানায় পুলিশ।
পরে বাসায় ফেলে যাওয়া মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিখোঁজ হওয়ার আগে তিনি দুটি পৃথক নম্বরে কথা বলেন। কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে পুলিশ তার অবস্থান কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকায় শনাক্ত করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে পালংখালীর থাইংখালী ব্রিজসংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, উদ্ধারকালে মো. সাবের নিজেকে অপহরণের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করতে ব্লেড ও কাঁটাযুক্ত বেত দিয়ে নিজের শরীরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে পিঠে আঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় সেখানে শুয়ে ছিলেন। পরে তাকে জামতলী পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যাম্প এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে আর্থিক পাওনা দাবি করছিলেন। সেই দেনা পরিশোধ এড়াতে এবং পাওনাদারদের বিভ্রান্ত করতে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের সহযোগিতায় অপহরণের মিথ্যা নাটক সাজান। পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি আত্মগোপনে যান এবং ঘটনাকে বিশ্বাসযোগ্য করতে নিজের শরীরে আঘাত করেন।
৮ এপিবিএনের দাবি, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ, ঘটনাস্থলের আলামত এবং ভিকটিমের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এটি প্রকৃত অপহরণের ঘটনা নয়; বরং আর্থিক দায়-দেনা এড়ানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে সাজানো একটি অপহরণের নাটক।