মোহাম্মদ নুর৷ | ২৯ জুলাই ২০২৬
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মায়ের অসুস্থতার মিথ্যা তথ্য দিয়ে মাদ্রাসা থেকে এক কিশোরকে কৌশলে বের করে অপহরণের অভিযোগে দুই কিশোরকে আটক করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। পরে অভিযান চালিয়ে অপহৃত কিশোরকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি গত শনিবার (২৬ জুলাই) রাতে উখিয়ার ময়নারঘোনা পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন এফডিএমএন ক্যাম্প-১২ এলাকায় ঘটে।
৮ এপিবিএনের তথ্য অনুযায়ী, অপহৃত মোহাম্মদ ইয়াসের (১৫) ক্যাম্প-১২-এর এইচ/৮ ব্লকের বাসিন্দা এবং একই ক্যাম্পের জি/১০ ব্লকের একটি মাদ্রাসার ছাত্র। তার সঙ্গে একই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করা মোহাম্মদ জুবায়ের (১৬) ও মমতাজ উল্লাহর (১৬) বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।
পুলিশ জানায়, শনিবার রাত ৯টার দিকে জুবায়ের ও মমতাজ মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের কাছে ইয়াসেরের মা অসুস্থ বলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাকে মাদ্রাসা থেকে বের করে সিএনজিযোগে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে প্রধান শিক্ষক ইয়াসেরের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানা যায়, তার মা সুস্থ আছেন এবং ইয়াসের বাড়িতেও ফেরেনি। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি ময়নারঘোনা পুলিশ ক্যাম্পকে জানান।
খবর পেয়ে ময়নারঘোনা পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) নাহিদ আহাম্মেদ, পিপিএমের নেতৃত্বে এসআই মো. মিজানুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয় হেড-মাঝি, সাব-মাঝি ও গোপন তথ্যদাতাদের সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালানো হয়।
একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ক্যাম্প-১২-এর জি/০৩ ব্লকের সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাত ১১টা ৫ মিনিটে অপহৃত ইয়াসেরকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। একই সময় অপহরণের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে জুবায়ের ও মমতাজকে আটক করা হয়।
পরে রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে উদ্ধার হওয়া ইয়াসেরকে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
৮ এপিবিএনের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ, পিপিএম জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে ময়নারঘোনা আর্মড পুলিশ ক্যাম্পে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।