মোরশেদ আলম চৌধুরী। ২৯ জুলাই ২০২৬
নদী ও বন—প্রকৃতির এই দুই অমূল্য সম্পদই একটি দেশের পরিবেশ, অর্থনীতি এবং মানবসভ্যতার প্রধান ভিত্তি। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, পৃথিবীর প্রাচীন সভ্যতাগুলো নদীর তীরে গড়ে উঠেছে, আর বন দিয়েছে জীবন, জীবিকা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য। অথচ আজ এই দুই সম্পদই দখল, দূষণ, অবৈধ বালু উত্তোলন, পাহাড় ও বন উজাড় এবং অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে।
বাংলাদেশের অসংখ্য নদী আজ নাব্যতা হারাচ্ছে, দূষিত হচ্ছে এবং স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে বনাঞ্চল ধ্বংস হওয়ায় জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী এবং জলবায়ুর ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে কৃষি, মৎস্য, নিরাপদ পানি, জনস্বাস্থ্য এবং মানুষের জীবিকায়।
আমরা বিশ্বাস করি, নদী ও বনকে শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে নয়, জাতীয় নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্বের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।
মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আমাদের বিনীত আহ্বান—
নদী দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হোক।
অবৈধ বালু উত্তোলন, বন উজাড় ও পাহাড় ধ্বংস বন্ধে কার্যকর ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হোক।
নদী পুনরুদ্ধার, বনায়ন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হোক।
স্থানীয় জনগণ, পরিবেশবিদ, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজকে সম্পৃক্ত করে পরিবেশ রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।
আজ যদি আমরা বন ও নদী রক্ষা করতে ব্যর্থ হই, তাহলে আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই আসুন, উন্নয়নের পাশাপাশি প্রকৃতি সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই। নদী বাঁচুক, বন বাঁচুক—বাংলাদেশ বাঁচুক।