মাহবুব আলম মিনার। বান্দরবান, ২ জুলাই ২০২৬
বান্দরবানের রুমা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি নিয়মিত টহল দলের ওপর ইউপিডিএফ ও কেএনএফের সশস্ত্র সদস্যরা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর এক কর্মকর্তা ও এক সদস্য আহত হয়েছেন। পরে পাল্টা অভিযানে হামলাকারীরা পিছু হটলে ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে জানা যায়, গতকাল দুপুরে রুমা উপজেলা সংলগ্ন রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী রেংতাং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত টহলে ছিল নিরাপত্তা বাহিনীর একটি দল। এ সময় ইউপিডিএফ ও কেএনএফের সশস্ত্র সদস্যরা অতর্কিত গুলিবর্ষণ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর একজন লেফটেন্যান্ট পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং একজন ল্যান্স কর্পোরাল সামান্য আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। আহত কর্মকর্তাকে হেলিকপ্টারে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। অপর আহত সদস্যকে স্থানীয় একটি বিজিবি ক্যাম্পে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, পাল্টা জবাবের মুখে হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ২টি এসবিবিএল আগ্নেয়াস্ত্র, ১৫৯ রাউন্ড ৭.৬২ মিলিমিটার গুলি, ৩টি ওয়াকিটকি সেট, মোবাইল সিম কার্ড এবং কেএনএফের ব্যবহৃত বলে দাবি করা কিছু সামরিক ইউনিফর্ম উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া তল্লাশির সময় কয়েকটি আস্তানা ও আশপাশের এলাকায় রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান এখনও চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি ও ট্রাইজংশন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি ইউপিডিএফ ও কেএনএফের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।