মাহবুব আলম মিনার -উখিয়া–টেকনাফ (কক্সবাজার) | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার–৪ (উখিয়া–টেকনাফ) আসনে আবারও জনতার রায়ে বিজয়ী হয়েছেন প্রবীণ ও পরীক্ষিত রাজনীতিবিদ শাহজাহান চৌধুরী। টানটান উত্তেজনার নির্বাচনে মাত্র ৯২৯ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে তিনি পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটসহ চূড়ান্ত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১,২২,৯০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১,২১,৯৮০ ভোট। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত এই নেতা নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় নতুন ইতিহাস গড়লেন। এর আগে ১৯৭৯, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি উখিয়া–টেকনাফের প্রতিনিধিত্ব করেন। পাঁচবার এমপি নির্বাচিত হওয়ার কৃতিত্ব তাকে এই সীমান্ত জনপদের রাজনীতিতে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে দীর্ঘদিনের মাদক চোরাচালান, অপহরণ, সীমান্ত অস্থিরতা, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা ও রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় অভিজ্ঞ ও দৃঢ় নেতৃত্বের প্রত্যাশাই এবারের রায়ের মূল ভিত্তি। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস—দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্বশীল ও মানবিক রাজনীতির মাধ্যমে তিনি উখিয়া–টেকনাফে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের নতুন ধারা সূচনা করবেন।
চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দ-উল্লাস দেখা যায়। তবে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী সবাইকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“এই বিজয় আমার ব্যক্তিগত নয়—এটি উখিয়া–টেকনাফবাসীর সম্মিলিত বিজয়। বিজয় উদযাপনের সময় সামনে অনেক আছে, এখনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।”
এদিকে রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল কবির চৌধুরী বলেন, “রাতদিন পরিশ্রম করে ভোটারদের সঙ্গে কাজ করেছি। সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বকে আবারও প্রতিষ্ঠিত করতে পেরে রত্নাপালং ইউনিয়নবাসীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কক্সবাজার–৪ আসনে এই জয় কেবল দলীয় সাফল্য নয়; বরং এটি অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও জনআস্থার শক্ত এক বার্তা—যা আগামী দিনে উখিয়া–টেকনাফের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।