সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি। নরসিংদী, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
স্কুল–কলেজ থেকে শুরু করে শৌচাগার—লক্ষ লক্ষ প্রতিষ্ঠানের ‘বিকৃত নাম’ জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুছে ফেলেছে উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, “এটাই হচ্ছে ইতিহাসের বিচার।” শনিবার দুপুরে নরসিংদীর পাঁচদোনায় ডাঙ্গা-ঘোড়াশাল-পাঁচদোনা সড়কটি বীর প্রতীক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ (নেভাল সিরাজ)-এর নামে নামকরণের ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
উপদেষ্টা বলেন, “বিকৃত ইতিহাস আর সংস্কৃতির নামে বছরের পর বছর অপকর্ম করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অপচয়-অপব্যয় থামাতেই আমাদের বেশি সময় লেগেছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি নিজের এলাকায় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক করলেও সেখানে টেম্পু ছাড়া কিছু চলে না—এটাই অপচয়ের নমুনা।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “একটি সুন্দর, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করুন। যে দলই বিজয়ী হোক, আমরা তার পাশে থাকব। কিন্তু কাউকে সুযোগ দেবেন না যাতে ভোটকেন্দ্র দখল, পোলিং এজেন্ট বের করে দেওয়া বা প্রক্রিয়া বিকৃতির ঘটনা ঘটাতে পারে।”
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারক ই-আজম বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিভাজন দীর্ঘস্থায়ী করতে চায় অনেকে। “ঐক্য ছাড়া মুক্তি নেই। আদালত এই সংকটের ন্যায়সঙ্গত সমাধান দেবে বলে আমরা আশাবাদী।”
পরে উপদেষ্টাদ্বয় বীর প্রতীক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ (নেভাল সিরাজ)-এর কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসন নরসিংদীর আয়োজনে পাঁচদোনা কে.জি. গুপ্ত স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত নামকরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারক ই আজম বীর প্রতীক ও প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন, পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল ফারক, জেলা বিএনপির সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেনসহ নেভাল সিরাজের পরিবার, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি।
—
বীর প্রতীক নেভাল সিরাজ: সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
পাকিস্তান নৌবাহিনীর কর্মকর্তা সিরাজ উদ্দিন আহমেদ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ছুটিতে নরসিংদীতে এসে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। ছাত্র-যুবকদের সংগঠিত করে নেহাবকে কেন্দ্র করে প্রতিরোধ ঘাঁটি গড়ে তোলেন। পাঁচদোনা–রূপগঞ্জ–শিবপুর–আড়াইহাজারসহ চার থানার গেরিলা ইউনিট কমান্ডারের দায়িত্ব পান তিনি। তার নেতৃত্বে বহু মুখোমুখি যুদ্ধ ও গেরিলা অভিযান পরিচালিত হয়।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে আড়াইহাজারের পুরিন্দায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। কিংবদন্তি বীরের খ্যাতি আজও তাকে অমর করে রেখেছে।