মাহবুব আলম মিনার। ৪ জুলাই
কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড়ঘেঁষা বাহারছড়া এলাকায় অপহরণ, মাদক ও মানবপাচার দমনে বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপহরণপ্রবণ এলাকায় পুলিশ চৌকি স্থাপন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চিরুনি অভিযান জোরদার এবং রোহিঙ্গাদের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) টেকনাফে অনুষ্ঠিত চার ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। সভায় জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থাপিত পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে টেকনাফের বাহারছড়াসহ পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় অন্তত ৩২০ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু গত এক বছরেই অপহৃত হয়েছেন ১৫৫ জন, যাদের ৯৬ জন রোহিঙ্গা। একই সময়ে হত্যা, গুলিবর্ষণ ও লাশ উদ্ধারের ঘটনাও বেড়েছে। সর্বশেষ এক সপ্তাহ আগে অপহৃত বাহারছড়ার পল্লী চিকিৎসক কামাল উদ্দিন এখনও উদ্ধার হননি।
সভায় অংশ নেওয়া একটি সূত্র জানায়, বাহারছড়াকে অপহরণ ও মুক্তিপণনির্ভর অপরাধচক্রের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কারণে এলাকাটিকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে সমন্বিত যৌথ অভিযান পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি অপহরণপ্রবণ এলাকায় পুলিশ চৌকি স্থাপন ও টহল বাড়ানোর প্রস্তাবও এসেছে।
সভা শেষে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে সংঘটিত অপহরণ, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ দমনে দ্রুত সমন্বিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে এবং টেকনাফকে নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, বাহারছড়াবাসীকে অপহরণের ভয় থেকে মুক্ত করতে দ্রুত যৌথ অভিযান চালানোর পাশাপাশি অপহরণপ্রবণ এলাকাগুলোতে স্থায়ী পুলিশ চৌকি স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।