আব্দুর রহমান। ২ জুলাই ২০২৬
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকেও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডুর বলিবাজার এলাকায় বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে স্পষ্ট, পরিস্থিতি এখনই শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গত দুই দিনে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলো পুনর্দখলের লক্ষ্য নিয়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিমান হামলার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই সংঘাত কতদিন চলবে, তা এখনই বলা কঠিন। কার্যকর কোনো আন্তর্জাতিক উদ্যোগ না এলে পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এর প্রভাব ইতোমধ্যে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্তেও অনুভূত হচ্ছে। সীমান্তবর্তী মানুষের মনে ফিরে এসেছে অতীতের আতঙ্ক। অতীতেও সীমান্তে গোলাবর্ষণ ও বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তাই সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
বিশেষ করে টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা, টেকনাফ পৌরসভা, সাবরাং ও শাহপরীর দ্বীপের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে সীমান্ত এলাকায় যাতায়াত থেকে বিরত থাকা উচিত। কৃষক, নাফ নদীর জেলে এবং সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় কর্মরত সবাইকে ঝুঁকি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়মিত সতর্কতামূলক বার্তা প্রচার এবং জনসচেতনতা বাড়াতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, সংঘাতের কারণে নতুন করে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, নতুন করে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এমনিতেই বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। সরকারের বর্তমান অবস্থানও স্পষ্ট রোহিঙ্গা হোক বা অন্য যে-ই হোক, নতুন করে কাউকে সীমান্ত অতিক্রম করে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
সব মিলিয়ে মিয়ানমারের চলমান সংঘাত শুধু সীমান্ত নিরাপত্তাই নয়, সীমান্তবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা, নাফ নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতি, মৎস্য আহরণ এবং সীমান্ত বাণিজ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতেও নতুন করে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সবার আগে নিরাপত্তা। গুজবে নয়, নির্ভর করুন যাচাইকৃত তথ্যের ওপর। সচেতন থাকুন, নিরাপদ থাকুন।