মাহবুব আলম মিনার – সম্পাদক আই টি এন নিউজ
🗓️ রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫
কক্সবাজারের উখিয়ার লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে (ক্যাম্প-৩) এক মক্তব শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১১ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতন ও অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন মৌলভী আব্দুল মুবিন।
ভুক্তভোগী শিশুটি নুর সাদিয়া (ছদ্মনাম, বয়স ১১), তার পরিবারের বরাতে জানা যায় — শিক্ষক আব্দুল মুবিন শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হাত দেয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি শিশুটি তার মা-বাবাকে জানালে, পরদিন শিশুর পিতা মোহাম্মদ ইসলাম মাদ্রাসার পরিচালককে অবগত করেন।
অভিযোগ করা হয়, ঘটনার দুইদিন পর শিক্ষক আব্দুল মুবিন ক্ষুব্ধ হয়ে নুর সাদিয়াকে ডেকে নিয়ে বেধড়ক মারধর করেন এবং কেন সে অভিভাবককে বিষয়টি জানিয়েছে তা নিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখান। পরবর্তীতে শিশুটির বাবা প্রতিবাদ জানালে শিক্ষক আব্দুল মুবিন তাকে ক্যাম্প থেকে তাড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন এবং সন্ত্রাসী লোকজন পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকিও দেন বলে অভিযোগ।
ভয়ে পরিবারটি বর্তমানে কুতুপালং রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লম্বাশিয়া ক্যাম্প-৩ এর ‘এ’ ব্লকে সাব-মাঝি আবু সালামের ব্লক এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোহিঙ্গা বাসিন্দা জানান, “ঘটনাটি সত্য। কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষক একটি সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকায় ব্লকের মাঝিরাও কথা বলতে ভয় পান।”
একই মাদ্রাসার আরও দুই শিক্ষক — হাফেজ মোহাম্মদ আলম ও নুরুল আবছার — অতীতেও অনুরূপ আচরণে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন অভিভাবক।
এ বিষয়ে ক্যাম্প-৩ এর ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) র মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি এখনো কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
এদিকে রবিবার সকালে শিশু নুর সাদিয়ার বাবা কে হুমকি দিয়ে ক্যাম্প ছেড়ে পালাতে বাধ্য করে – অন্য দিকে শিশু টির মা কে ও শিশু নুর সাদিয়া কে জোরপূর্বক সিআইসির কাছে নিয়ে – অভিযুক্ত মৌলবি আব্দুল মুবিনের পক্ষে চাপায় গায়তে নিয়ে যায় বলে জানান ব্লকের বাসিন্দারা।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে ক্যাম্পে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এমন ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং দ্রুত তদন্ত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।