মাহবুব আলম মিনার – অনুসন্ধানী প্রতিবেদক | ২১ নভেম্বর ২০২৫
কক্সবাজারের উখিয়া–টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আধিপত্য বিস্তার ও সন্ত্রাসী তৎপরতা কমলেও অপহরণের ঘটনা থামছে না। বরং দিনকে দিন নতুন রূপে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গেল এক মাসে বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে অন্তত ১২ জন রোহিঙ্গাকে অপহরণ করার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দু–একজনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার করলেও বেশিরভাগকেই মুক্তিপণ আদায়ের পর ছেড়ে দিয়েছে অপহরণকারীরা।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২১ অক্টোবর ক্যাম্প-১৪ থেকে নিখোঁজ হয় ৮ বছরের শিশু মোহাম্মদ এরফান। ঘটনাটি ক্যাম্পজুড়ে আতঙ্ক তৈরি করলেও অপহৃত শিশুটিকে এখনও উদ্ধার করতে পারেনি প্রশাসন।
এরফানের বাবা আব্দু শুক্কুর ও মা ফাতেমা বেগম জানান, আরাকান আর্মির নির্যাতন থেকে জীবন বাঁচাতে ২০২৪ সালে তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। বর্তমানে ক্যাম্প-১৪ এর ব্লক সি/২-তে বসবাস করছেন।
অপহরণকারীরা তাদের সাথে যোগাযোগ করে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। কিন্তু টাকার ব্যবস্থা করতে না পারায় এখনও ফিরে পাননি তাদের শিশু সন্তানকে।
শিশু এরফানের বাবা আব্দু শুক্কুর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন—
“আমরা গরিব মানুষ। এত টাকা কোথায় পাব? সিআইসি, এপিবিএন—সব জায়গায় জানিয়েছি। কেউ আমাদের বাচ্চাটাকে ফেরাতে পারেনি।”
পরিবারটি প্রথমে ব্লকের মাঝির মাধ্যমে ঘটনাটি ক্যাম্প ইনচার্জ (CIC) এর কাছে তুলে ধরে। পরে এটি এপিবিএন-১৪ পুলিশকে অবহিত করা হয়। কিন্তু এক মাস পেরিয়ে গেলেও অপহৃত শিশুর কোনো হদিস মিলছে না।
এ বিষয়ে ব্লক মাঝি জানান,
“আমরা সিআইসি ও পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি। এখন উদ্ধার কাজ পুরোপুরি তাদের হাতে। দ্রুত এরফানকে উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি।”
অপহরণে সক্রিয় সংগঠিত সিন্ডিকেট, লক্ষ্য ‘নতুন ও প্রবাসী রোহিঙ্গারা’
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণকারী উখিয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক শাকুর মাহমুদ চৌধুরী বলেন—
“একটি বড় অপহরণকারী সিন্ডিকেট ক্যাম্পে সক্রিয়। তারা বিশেষ করে নতুন আসা রোহিঙ্গা বা বিদেশফেরত রোহিঙ্গা পরিবারকে টার্গেট করে। থানায় রোহিঙ্গাদের বিষয়ে জিডি গ্রহণ না করায় অপহরণকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”
তিনি আরও বলেন,
“জিডির ব্যবস্থা না থাকলে র্যাব বা পুলিশ দ্রুত অভিযান পরিচালনা করতে পারে না। তাই সিআইসির মাধ্যমে জিডির একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি চালু করা জরুরি। একইসঙ্গে ক্যাম্পে নিয়মিত অভিযান বাড়াতে হবে।”
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (CIC): ‘উদ্ধারে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন’
অপহৃত শিশু মোহাম্মদ এরফানের উদ্ধারের বিষয়ে জানতে ক্যাম্প-১৪ এর এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও ক্যাম্প ইনচার্জ (CIC) এর কাছে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন—
“ঘটনাটি থানা পুলিশ ও এপিবিএনকে অবহিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তরিক সহায়তা পেলে শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব।”
শিশু এরফানের পরিবার এখনও অপেক্ষায়—‘বাচ্চাটাকে শুধু একবার দেখতে চাই’
শিশুটির বাবা–মা এখন দিন-রাত কাটাচ্ছেন দুশ্চিন্তা আর আশঙ্কায়। প্রতিটি মুহূর্তে তারা তাকিয়ে আছেন প্রশাসনের দিকে। তাদের একটাই দাবি—
“এরফানকে জীবিত ফেরত দিন।”
অপহরণের আরেক ঘটনায় ক্যাম্প ২০ এর বাসিন্দা মাওলানা একরামের ১২ বছরের শিশু আনাচ কে অপহরণ করে ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করেছে। গেল ৩১-৭-২০২৫ ইং তারিখে অপহরণ হলেও মুক্তিপণের টাকা দিতে না পারায় ৪ মাসেও ফিরে পায়নি আনাচ কে, আনাচের বাবা মোওলানা একরাম জানান নিজ সন্তান কে উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনতে ১০ বাবারের বেশি সময় উখিয়া থানায় গিয়েছেন যোগাযোগ করেছেন পুলিশের সাথে কিন্তু এখনো উদ্ধার হয়নি। এদিকে সন্তানের অপহরণের কথা চিন্তা করে শিশু আনাচের মা কান্নায় ১ বার স্টোকও করেছেন, প্রতিদিন সন্তান কে ফিরে পাওয়ার আসায় থাকেন, শিশু আনাচ কে উদ্ধারে প্রশাসনের কাছে বারবার অনুরোধও জানাচেছন।