★কথিত ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি জেলায় বাঙালিদের ওপর হামলা ও সহিংসতায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।
★স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলমান পরিস্থিতির নেপথ্যে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত এবং ভারতীয় গোয়েন্দাদের ভূমিকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
বিস্তারিত
খাগড়াছড়িতে এক মারমা কিশোরীর ধর্ষণের কথিত অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলছে ব্যাপক অরাজকতা। শহরে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানোয় গ্রাম পর্যায়ে সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার দিনভর জেলার গুইমারা এলাকা ও আশপাশের গ্রামে বাঙালিদের বাড়িঘর ও স্থাপনায় হামলা হয়। সংঘর্ষে তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সহিংসতা এখানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো পার্বত্যাঞ্চল ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পাহাড় অশান্ত করতে দেশি-বিদেশি মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ভারতীয় গোয়েন্দাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই বিবদমান সশস্ত্র সংগঠন—জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)—ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে। এ প্রক্রিয়ায় ভারতের রাজধানী দিল্লিতে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে, যেখানে এক বৌদ্ধ ধর্মগুরু ও ‘র’ গোয়েন্দাদের উপস্থিতির কথাও শোনা যাচ্ছে।
কথিত ধর্ষণের অভিযোগকেই এখন এই পরিকল্পনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মেডিকেল পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি, তবু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সেনাবাহিনীকে টার্গেট করে অর্ধশতাধিক ফেসবুক পেজ থেকে অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে, যেগুলোর বেশিরভাগই সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ভারতীয় নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পরিচালিত হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদ উল্লাহ চৌধুরী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। পতিত আওয়ামী লীগ ও ভারতের যৌথ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এই পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। সরকারকে সতর্ক ও কৌশলী ভূমিকা নিতে হবে, নইলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করবে।
চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন বলেন, প্রশাসনের সব শাখা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে নতুন নতুন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।