★ খাগড়াছড়িতে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাহাড়।
★ইউপিডিএফ ও সমর্থক সংগঠনগুলো হরতাল-অবরোধের নামে সহিংসতা চালিয়ে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের আশঙ্কা তৈরি করছে।
★সেনাবাহিনী ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখলেও জনজীবনে নেমে এসেছে ভোগান্তি ও আতঙ্ক।
বিস্তারিত সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার মাহবুব আলম মিনার
সম্পাদক আই টি এন নিউজ
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ (সোমবার):
পার্বত্য চট্টগ্রাম—বাংলাদেশের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অঞ্চল। পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নৈসর্গিক পরিবেশ ও বহু জাতিগোষ্ঠীর সহাবস্থানে সমৃদ্ধ এই ভূখণ্ড হঠাৎ করেই অশান্ত হয়ে উঠেছে একটি ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। প্রশ্ন উঠছে—এ উত্তেজনা কি কেবল একটি অপরাধ ঘটনার পরিণতি, নাকি পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা?
২৩ সেপ্টেম্বর রাতে খাগড়াছড়ি সদরে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিনই সেনাবাহিনী সন্দেহভাজন শয়ন শীলকে (১৯) গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। অর্থাৎ অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
কিন্তু এরপর থেকেই বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউপিডিএফ ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলো নানা কর্মসূচি ঘোষণা করে। প্রতিবাদ সমাবেশ, হরতাল, সড়ক অবরোধ এমনকি সেনাবাহিনীর গাড়িতে হামলার মতো ঘটনা দ্রুতই পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে।
হরতাল ও অবরোধের কারণে জেলার সাধারণ মানুষের জীবন থমকে যায়। সাজেকে হাজারো পর্যটক আটকা পড়ে, যাদের সেনাবাহিনী উদ্ধার করে নিরাপদে পৌঁছে দেয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। জনজীবনে নেমে আসে আতঙ্ক ও ভোগান্তি।
সহিংসতার রূপ
২৬ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে সেনাবাহিনীর গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে চার সেনাসদস্য আহত হন। ২৭ সেপ্টেম্বর আবারও অবরোধ ডাকা হয়। খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিভিন্ন স্থানে গাছ কেটে সড়ক অবরোধ, টায়ারে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাঙালি-বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে পরিস্থিতি সাম্প্রদায়িক রূপ নিতে শুরু করে।
সংকেত ও আশঙ্কা
অপরাধের প্রকৃত তদন্ত ও বিচারের দাবি বিজ্ঞ বলে মনোনীত থাকলেও, কয়েকটি গুরুতর আশঙ্কাও উসকে দিয়েছে। স্থানীয়রা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন—
একটি মহলের চক্র রয়েছে: কিছু মহল ইস্যাটিকে সরকারের বিরুদ্ধে মনোযোগ ঘোরানোর, বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চিন্তায় আছে বলে অনেকে মনে করছেন।
সেনাবাহিনী সরানোর কৌশল: পাহাড়ি অঞ্চলের একাংশ থেকে সেনাবাহিনীকে শিথিল বা সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই উত্তেজনা সৃষ্টি করা হতে পারে—এ ধরনের কৌশল প্রয়োগের চেষ্টা বদনাম ও নিয়ন্ত্রণশূন্যতার সুযোগ তৈরি করে।
আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে ব্যবহারের ইঙ্গিত: কিছু বিশ্লেষক আশঙ্কা করছেন,
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও মানবাধিকার ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশকে কটাক্ষ বা চাপের মুখে ফেলার একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
উল্লেখ্য, উপরোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে নানা মহলে অনুধাবন ও অনুমান রয়েছে; এগুলো দায়সাপেক্ষভাবে প্রাথমিক পর্যায়ের বিশ্লেষণ এবং এগুলোকে সরকারী বা স্বাধীন তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরা যাবে না।
প্রশাসনের অবস্থান
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কণ্ঠে অভিযোগ ও বিশ্লেষণের এই ঝোঁককে টেনে এনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার পরও সহিংসতা চালানো হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ বলপ্রয়োগ না করে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে প্রশাসন ও স্থানীয় নেতারা জনসাধারণকে শান্ত থাকতে ও আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আহ্বান জানাচ্ছেন।
শান্তির পথে করণীয়
★অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা।
★উসকানিমূলক রাজনীতি ও সহিংসতা থেকে বিরত থাকা।
★পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর সম্প্রীতি অটুট রাখা।
★গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে দায়িত্বশীলভাবে পরিস্থিতি উপস্থাপন করা।
মাটিরাঙার বাসিন্দা আব্দুল হাই আই টি এন নিউজকে বলেন, “ধর্ষণের বিচার অবশ্যই হতে হবে। কিন্তু সেই অপরাধকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি-বাঙালির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
পাহাড়ে এখনও সতর্কতা জারি। স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন—সম্প্রীতির বন্ধন টিকিয়ে রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।