মাহবুব আলম মিনার। ২৫ মার্চ ২০২৬
কক্সবাজারের উখিয়ায় দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী শান্তমনি আক্তারের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচার না পাওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।
ভুক্তভোগী শান্তমনি আক্তার (পিতা: আবুতাহের), উখিয়া উপজেলার উত্তর রহমতের বিল, বালুখালী এলাকার বাসিন্দা। তিনি উখিয়া উপজেলার থাইংখালী হাই স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী। বর্তমানে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন। তার শরীরে এখনো নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন বহমান রয়েছে বলে জানা গেছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা এই শিক্ষার্থীর দ্রুত সুস্থতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তবে ঘটনার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীর পরিবারকেই হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এমন একটি গুরুতর ঘটনায় দ্রুত মামলা গ্রহণ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের গ্রেপ্তার জরুরি ছিল। কিন্তু তা না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকেই বলছেন, প্রভাবশালীদের কারণে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এদিকে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নির্যাতনের কারণে শান্তমনির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তার মানসিক সহায়তাও প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রে কোনো অপরাধই ধামাচাপা পড়ে থাকতে পারে না। তাই এ ঘটনায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি এখন শুধু একটি নির্যাতনের অভিযোগ নয়—বরং ন্যায়বিচার ও মানবিকতার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে উখিয়াবাসীর কাছে।