নিজস্ব প্রতিবেদক | মাহবুব আলম মিনার
কক্সবাজার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে অপহরণ। গত দুই মাসে অন্তত ১২ জনকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে অধিকাংশই শিশু। অপহরণকারীরা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য ভুক্তভোগীদের ওপর নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে তার ছবি ও ভিডিও মোবাইল ফোনে স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এমনই এক ভয়াবহ ঘটনার শিকার হয়েছে ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা আবদু শুক্কুরের ১২ বছর বয়সী শিশু পুত্র এরফান। প্রায় দুই মাস আগে এরফানকে অপহরণ করে একটি চক্র, পরে তার পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। শিশুটির ওপর নির্যাতন না চালানোর অনুরোধে আতঙ্কিত বাবা আবদু শুক্কুর প্রথমে বিকাশের মাধ্যমে ১২ হাজার টাকা পাঠালেও পুরো টাকা দিতে না পারায় দুই মাসেও মুক্তি মেলেনি শিশু এরফানের।
নিরুপায় হয়ে শিশুটির বাবা বিষয়টি ক্যাম্প ইনচার্জকে অবহিত করলে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) মাধ্যমে উখিয়া থানায় একটি উদ্ধারসংক্রান্ত অভিযোগ করা হয়। পরে মামলাটি তদন্তের জন্য কক্সবাজার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এরই মধ্যে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে অপহরণকারীরা আবারও যোগাযোগ করে। ভুক্তভোগীর মোবাইলে ফোন করে জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাজার এলাকায় মুক্তিপণের টাকা নিয়ে দেখা করতে বলে চক্রটির এক সহযোগী। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জামতলী ৮ এপিবিএনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দু জলিলকে জানানো হলে তিনি এসআই তপনকে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে অভিযান চালিয়ে মুক্তিপণের টাকা নিতে আসা রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৫ এর বাসিন্দা জাকার উল্লাহর ছেলে নুর জমিল (২৮) কে আটক করা হয়। সে অপহরণ চক্রের সক্রিয় সহযোগী বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য মিলেছে।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দু জলিল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপহরণসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে ৮ এপিবিএন জোরালোভাবে কাজ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ অপহরণকারীর এক সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। তবে দুঃখজনকভাবে শিশু এরফান এখনো উদ্ধার হয়নি।”
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল ও মামলাটি ১৪ এপিবিএনের আওতাধীন হওয়ায় আটককৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ১৪ এপিবিএনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধী চক্রগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। দ্রুত শিশু এরফানকে উদ্ধারসহ অপহরণ চক্রের মূলহোতাদের গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।