ফরিদুল আলম রনি। ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কক্সবাজারের রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারে মহাবোধি বুদ্ধ ধাতু চৈত্য (স্বর্ণজাদী) অভিষেক উপলক্ষে এক হাজার বুদ্ধমূর্তি দান ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী শুভ মাঘী পূর্ণিমা উদযাপন ও জাতীয় বৌদ্ধ মহাসম্মেলন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
অভিষেক অনুষ্ঠানে সারিবদ্ধভাবে সুসজ্জিত আসনে এক হাজার বুদ্ধমূর্তি আনয়ন করা হয়। ধর্মীয় কীর্তন ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে বুদ্ধমূর্তি দান করেন বড়ুয়া সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের ধর্মপ্রাণ মানুষ। আয়োজকদের মতে, এ আয়োজন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে।
মহাবোধি বুদ্ধ ধাতু চৈত্য অভিষেক ও শুভ মাঘী পূর্ণিমা উদযাপন পরিষদ ২০২৬-এর আয়োজনে গত ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি এবং ১ ফেব্রুয়ারি—এই তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে সব ধর্মের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ধর্মপ্রাণ পুণ্যার্থীরা বুদ্ধমূর্তি দান করেন এবং বৌদ্ধ ভিক্ষুগণ দেশ ও বিশ্বের মানুষের শান্তি কামনায় প্রার্থনা পরিচালনা করেন।
এই মহতী ধর্মীয় আয়োজনে দেশ-বিদেশের বরেণ্য ভিক্ষুসংঘের সদ্ধর্ম দেশনা, পবিত্র ধাতু ও মুকুট স্থাপন এবং ঐতিহাসিক স্বর্ণজাদীর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়। থাইল্যান্ড, ফ্রান্স, শ্রীলংকা, কলকাতা ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আগত বৌদ্ধ ভিক্ষু ও পুণ্যার্থীরা এতে অংশ নেন।
উদযাপন পরিষদের সমন্বয়কারী উ খন্তিপঞ্ঞা মহাথের জানান, তথাগত সম্যক সম্বুদ্ধের পবিত্র সদ্ধর্মের আলোয় উদ্ভাসিত হতে যাচ্ছে রামু। এ মহাপুণ্যময় আয়োজন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের অধ্যক্ষ শীলপ্রিয় মহাথের, উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুবীর বড়ুয়া বুলু, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কামালউদ্দিন, রামু থানার ওসি (তদন্ত) শেখ ফরিদসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এসময় রামু থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।