কক্সবাজার প্রতিনিধি। ২১ জুলাই ২০২৬
সৌন্দর্যের লীলাভূমি কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোড প্রতিদিন হাজারো পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের চলাচলে মুখরিত থাকে। তবে দীর্ঘ এই উপকূলীয় সড়কে প্রতিনিয়ত আতঙ্কের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বেপরোয়া গতির ‘সাম্পান’ গাড়ি (পাওয়ার ট্রিলার বা ইঞ্জিনচালিত একধরনের স্থানীয় যানবাহন)। ট্রাফিক আইন তোয়াক্কা না করে দ্রুতগতিতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলায় এই যানগুলো এখন রূপ নিয়েছে এক একটি ‘চলন্ত মরণফাঁদে’।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেরিন ড্রাইভের মতো তুলনামূলক সরু ও বাঁকবহুল সড়কে ভারী মালামাল, নির্মাণসামগ্রী ও স্থানীয় কৃষিপণ্য পরিবহনে এসব সাম্পান গাড়ি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন এসব যানের চালকদের অধিকাংশের নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ বা ড্রাইভিং লাইসেন্স। কম বয়সী কিশোর ও অপ্রাপ্তবয়স্ক যুবকরাই মূলতঃ বেপরোয়া গতিতে এগুলো ছুটিয়ে নিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পর্যটক ও পথচারী
নিয়ন্ত্রণহীন গতি আর ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের কারণে মেরিন ড্রাইভে ছোট-বড় দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। পর্যটকবাহী জিপ, সিএনজি অটোরিকশা কিংবা মোটরবাইকের সঙ্গে প্রায়শই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে পর্যটকেরা প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে আচমকা পেছন থেকে আসা এসব বেপরোয়া সাম্পান গাড়ির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, “সমুদ্রের পাড় ধরে যাওয়ার এই চমৎকার রাস্তাটা এখন আতঙ্কের জায়গা। সাম্পান গাড়িগুলো যে গতিতে আর বিকট শব্দে আসে, মনে হয় যেকোনো মুহূর্তে গায়ে তুলে দেবে। অনেক সময় ওভারটেকিং করতে গিয়ে পুরো রাস্তা দখল করে ফেলে।”
নিরাপত্তার দাবি ও কর্তৃপক্ষের নজরদারি
মেরিন ড্রাইভে নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যটক ও স্থানীয়দের দাবি—
অবিলম্বে ফিটনেসবিহীন ও অননুমোদিত সাম্পান গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা।
অপ্রাপ্তবয়স্ক ও লাইসেন্সহীন চালকদের গাড়ি চালানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলতে গতিবিদ বা স্পিড গান ব্যবহারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক ট্রাফিক মনিটরিং নিশ্চিত করা।
অনুপম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই পথ যেন শোকের কারণ না হয়, সে জন্য এখনই সাম্পান গাড়ির বেপরোয়া গতির রাশ টানতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সর্বস্তরের মানুষ।