আবিদুর রহমান, কুবি প্রতিনিধি | ২৭ জুলাই ২০২৬
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে নতুন উপ-উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষ। দু’জনই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষক। এর মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো প্রশাসনিক সর্বোচ্চ তিনটি পদে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন নিজস্ব শিক্ষক একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে নব্য উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন।
সোমবার (২৭ জুলাই) সহকারী সচিব মো: সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়।
প্রজ্ঞাপন দুটিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও আচার্যের অনুমোদনক্রমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬ (সংশোধিত-২০১৩) এর ১২(১) অনুযায়ী কোষাধ্যক্ষ এবং ১১ (ক) (১) দ্বারা অনুযায়ী উপ-উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা যোগদানের তারিখ হতে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখের মধ্যে যা পূর্বে ঘটে সেই সময় পর্যন্ত তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার আলীপুর গ্রামে একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং চায়না উহান ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে ট্যুরিজম মার্কেটিং বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। গবেষণায় ৩০টির বেশি গবেষণা নিবন্ধ স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
এছাড়াও নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, নিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন হিসেবে প্রায় ১৬ বছর, নিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, অর্থ কমিটির সদস্য, ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক এবং উচ্চ শিক্ষা সেলের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে নবনিযুক্ত কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর চায়না শিয়ামেন ইউনিভার্সিটি থেকে ২০১১ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি কস্ট ও ম্যানেজমেন্ট একাউন্টিং বিষয়ে উচ্চতর পেশাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
তাছাড়াও, তিনি ২০১১ সালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় তাঁর বেশ সুনাম রয়েছে। ৪১টির বেশি গবেষণা নিবন্ধ স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি এর আগে বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, ডিন, একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, অর্থ কমিটির সদস্য, নিজ বিভাগের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর, এমবিএ ইভিনিং প্রোগ্রাম, নিজ বিভাগের OBE কারিকুলামের চেয়ারম্যান, গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরের পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রজ্ঞাপন জারির পর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন থেকে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য, নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ রেজিস্ট্রারসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে নবনিযুক্ত কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘উপাচার্য মহোদয় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে স্টুডেন্ট ফার্স্ট হিসেবে ঘোষণা করেছেন সেই আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত ভাবে উন্নত করতে সচেষ্ট থাকবো। সাধারণ কোষাধ্যক্ষের কাজ আর্থিক বিষয়াদি নিয়ে, তাই এইসব কাজে আমার যেসব অংশীজন থাকবেন সকলের সহযোগিতা কামনা করছি এবং সকলের দোয়া কামনা করছি। ‘
নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ এবং আমি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি। আমাদের লক্ষ্য ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট’ নীতিকে বাস্তবায়ন করা। তাই শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা এবং সার্বিক মানোন্নয়নে যা যা প্রয়োজন, তা করতে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করব। শুধু বক্তব্যে নয়, কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত আমার স্টুডেন্ট ফার্স্ট নীতিকে ওনারা স্বাগত জানিয়েছেন। আমাদের কোষাধ্যক্ষ একজন মেধাবী শিক্ষক এবং বর্তমানে ডিনের দায়িত্বও পালন করছেন আশাকরি তিনি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। আমি আজকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শৃঙ্খলা ফেরানো এবং মানোন্নয়নের দায়িত্ব উপ-উপাচার্য মহোদয়কে প্রদান করছি, আশাকরি তিনি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে সহযোগিতা করবেন৷ আমি নবনিযুক্ত উপ উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষকে আবারও অভিনন্দন জানাই, আশাকরি ওনারা সফলভাবে ওনাদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।’