নজরুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের লামা উপজেলার প্রধান কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, মাছ, মাংস ও সবজির দাম এখনও ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে সবজির বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য দৈনন্দিন বাজার করা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) লামা উপজেলার প্রধান কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও হাড্ডিসহ মাংস ৭৫০ টাকা এবং শুধু মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও রয়েছে উচ্চমূল্য। তেলাপিয়া মাছ ২৪০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৮০ টাকা এবং লইট্টা মাছ ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সাধারণ মানের আলু ৩০ টাকা হলেও ভালো মানের আলু ৬০ টাকা কেজি। এছাড়া কাঁচামরিচ ২০০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা এবং পটল ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজির দামও চড়া থাকায় বাজারে আসা ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে।
ক্রেতারা জানান, আয় না বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগাতার বাড়ছে। ফলে সীমিত আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে বাজার করে বাড়ি ফিরছেন।
অন্যদিকে বিক্রেতাদের ভাষ্য, পাইকারি বাজারে বেশি দামে পণ্য কিনতে হওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক বন্যা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব বাজারে পড়েছে।
ভোক্তারা বাজারে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিয়মিত বাজার তদারকি করা হলে সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে পাবে।