June 13, 2026, 9:20 am
শিরোনাম :
ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় অপহরণ দুই মাস পর রাঙ্গামাটি সনাতন ঋষি আশ্রম থেকে উদ্ধার নওমুসলিম তরুণী আয়েশা সিদ্দিকা জারা উখিয়ায় বিজিবির দুই অভিযানে ৬০ হাজার ইয়াবা, ৯ বস্তা সার ও ২ জন আটক অসহায় সেজে আশ্রয়, ২ দিন পরে ৩ বছরের শিশুকে অপহরণ; অভিযোগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার, সদর থানার অভিযানে রোহিঙ্গা নারী আটক আরও একটি ঈদুল আযহা কেটে গেল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে। রোহিঙ্গাদের মাতৃভূমিমুখী করতে সচেতনতায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, প্রশংসিত সিআইসি আরাফাতুল আলম টেকনাফ টেলিভিশন জার্নালিস্ট সোসাইটির আহ্বায়ক কমিটি গঠিত: আহ্বায়ক আকাশ, সদস্য সচিব সোহেল জামিনে বেরিয়েই আবারও আটক শাহীন ডাকাত — সীমান্তে নতুন আতঙ্ক, আরাকান আর্মির চোরাচালান সিন্ডিকেটে গোপন যোগসাজশের অভিযোগ জামিনে বেরিয়েই আবারও আটক শাহীন ডাকাত — সীমান্তে নতুন আতঙ্ক, আরাকান আর্মির চোরাচালান সিন্ডিকেটে গোপন যোগসাজশের অভিযোগ সীমান্তে আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে ৩ জন নিহত, আতঙ্কে ঘুমধুম সীমান্তবাসী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের রক্তপাত: ১৮ ঘণ্টায় নিহত ২ নেতা, আধিপত্য বিস্তার ও ‘টার্গেট কিলিং’ আতঙ্কে উখিয়া-টেকনাফ

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় অপহরণ দুই মাস পর রাঙ্গামাটি সনাতন ঋষি আশ্রম থেকে উদ্ধার নওমুসলিম তরুণী আয়েশা সিদ্দিকা জারা

Reporter Name

মাহবুব আলম মিনার। ১২ জুন ২০২৬

দীর্ঘ প্রায় দুই মাসের রহস্য ও উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে রাঙামাটির চন্দ্রঘোনা থানাধীন বাঙ্গালহালিয়া এলাকার একটি ঋষি আশ্রম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নওমুসলিম তরুণী আয়েশা সিদ্দিকা জারা (২১)-কে। আদালতের সার্চ ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে পরিচালিত যৌথ অভিযানে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার আদালতের জারি করা তল্লাশি পরোয়ানা এবং ঈদগাঁও থানা পুলিশের রিকুইজিশনের ভিত্তিতে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ বাঙ্গালহালিয়ার সনাতন ঋষি আশ্রমে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান পরিচালনার আগে তথ্য সূত্র সহযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি গোয়েন্দা টিম কাজ করেছে – পরে বিষয় টি চন্দ্রঘোনা থানা কে অবগত করে ঐ এলাকায় দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত সেনাবাহিনী। তখন উক্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে আয়েশা সিদ্দিকা জারাকে উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঈদগাঁও থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাকের আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত তরুণীকে সংশ্লিষ্ট থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ধর্মান্তর থেকে নিখোঁজ হওয়া
উদ্ধার হওয়া তরুণীর পূর্ব নাম তন্নী দে ঋপন্না। তিনি বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার সদর হিন্দুপাড়ার বাসিন্দা সঞ্জিত কুমার দে’র মেয়ে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তিনি চলতি বছরের ১ মার্চ চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হলফনামার মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে আয়েশা সিদ্দিকা জারা রাখেন।

জারার সহপাঠীদের দাবি, ধর্মান্তরের পর থেকেই তিনি পারিবারিক চাপে ছিলেন। এমনকি এক পর্যায়ে তিনি তার বন্ধুদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে গত ২৮ মার্চ কক্সবাজারের ঈদগাঁও এলাকা থেকে চট্টগ্রামে ফেরার পথে তিনি নিখোঁজ হন। এরপর থেকেই তাকে উদ্ধারের দাবিতে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়।

আদালতের দ্বারস্থ সহপাঠীরা
জারা নিখোঁজ হওয়ার পর তার এক সহপাঠী মো. শহীদুল ইসলাম প্রথমে ঈদগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় কক্সবাজারের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায় আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতেই আদালত তল্লাশি পরোয়ানা জারি করেন এবং শেষ পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়।

দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্য
উদ্ধারের পর আয়েশা সিদ্দিকা জারা জানিয়েছেন, তিনি প্রাপ্তবয়স্ক এবং স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তার দাবি, তাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে আটকে রাখা হয়েছিল।

অন্যদিকে, জারার মা তপশী দে অপহরণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মেয়েকে জোরপূর্বক কোথাও রাখা হয়নি; ধর্মীয় দীক্ষার উদ্দেশ্যে তাকে আশ্রমে নেওয়া হয়েছিল।

আশ্রম কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে, জারার বাবা-মাই তাকে সেখানে রেখে গিয়েছিলেন এবং তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন—এ তথ্য তাদের জানা ছিল না।

নতুন প্রশ্নের জন্ম
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক একজন নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে কী কারণে দীর্ঘ সময় একটি আশ্রমে রাখা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

চন্দ্রঘোনা থানায় সাংবাদিকদের উপস্থিতে ভিকটিম জারা জানায় দুই মাস আগে তাকে ইনজেকশনের মাধ্যমে অচেতন করে নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু কোথায় নিয়ে এসেছে তা সে জানতেন না। ঋষি আশ্রমে এনে তাকে হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে আনতে নানা কৌশল অবলম্বন করার পর ব্যার্থ হলে পরে ভারত পাচার করার সিন্ধান্ত নেয় ঋষি আশ্রম তখন ভিকটিম তাদের অবস্থা বুঝতে পেরে অন্যএকজনের মোবাইল থেকে হাজী মহসিন কলেজের এক ছাত্র কে বিষয় টি অবগত করে ঠিকানা টি দিতে সক্ষম হয়। তখন তার সহপাঠীরা বিষয় টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সেনাবাহিনী কে অবগত করে, পরে সেনাবাহিনী পুলিশ পাঠিয়ে ভিকটিম কে উদ্ধার করে বলে জানান। ভিকটিম আরোও জানান সে ইসলাম ধর্ম ছেড়ে কোথাও যাবে না, কোর্টের নির্দেশ ফেলে সে নিজেই তার আশ্রয় স্থান ও কলেজে চলে যাবে বলে জানান।

বর্তমানে আয়েশা সিদ্দিকা জারা ঈদগাঁও থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে তার ভবিষ্যৎ অবস্থান ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা