নাফ নদী থেকে নিখোঁজ চাকমা জেলে চামংচিং—পরিবারের দাবি RSO’র বন্দিশালায়, চার সন্তানের কান্নায় টেকনাফ ভারী
২৭ এপ্রিল ২০২৬ | মোহাম্মদ নুর – স্টাফ রিপোর্টার
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চাকমাপাড়ায় এখন শুধুই কান্না আর অপেক্ষা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ৫০ বছর বয়সী চামংচিং চাকমা গত ২২ এপ্রিল ভোরে নাফ নদীতে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হন। পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এখন স্বজনদের সরাসরি অভিযোগ—তিনি রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (RSO)-এর হাতে বন্দি রয়েছেন।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়ি ঢালায় অবস্থিত চাকমাপাড়ায় প্রায় ১৮০টি পরিবারের ৫৫০ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। দিন এনে দিন খাওয়া এই জনপদে চামংচিং চাকমা ছিলেন একজন পরিশ্রমী জেলে ও কৃষিশ্রমিক। মাছ ধরা, কাঁকড়া সংগ্রহ ও কৃষিকাজ করেই চলত তার চার সন্তানের সংসার।
স্বজনরা জানান, ওইদিন ভোরে পালংখালির পূর্ব পাশে নাফ নদীতে কাঁকড়া ধরতে যান তিনি। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় ইউপি সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে নানা সূত্রে জানতে পারেন, চামংচিং RSO’র কাছে আটক থাকতে পারেন।
চামংচিংয়ের স্ত্রী অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “আমার চার সন্তানের দিকে তাকিয়ে আমার স্বামীকে জীবিত ফিরিয়ে দিন। আমরা আর কিছু চাই না।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুদন তনচঙ্গাও আবেগঘন কণ্ঠে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আমার অসহায় ভাগিনাকে ফিরিয়ে দিন। সে নিরীহ মানুষ, পরিবারের একমাত্র ভরসা।”
এ ঘটনায় পুরো চাকমাপাড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে নাফ নদীর ওপারের কিছু অংশে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব রয়েছে। যদি সত্যিই চামংচিং কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে আটক থাকেন, তবে মানবিক কারণে তাকে দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।
এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একাধিক নারীও RSO’র বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে ও তার মেয়েকে ক্যাম্প ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। আরেক নারী অভিযোগ করেন, RSO’র কিছু সদস্য বর্তমানে বিভিন্ন ক্যাম্পে গোপনে অপহরণ, মাদক কারবার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সীমান্ত অপরাধে জড়িত। অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন—আক্কাসিম, সোহাইল, ইসমাইল, আনিস, আমিন ও সলিম।
এছাড়া সীমান্তপাড়ের কিছু বাংলাদেশি সহযোগীর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—রিসবা, ফয়েজ, নুর মোহাম্মদ ও আবুল ফয়েজ।
স্থানীয়রা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিখোঁজ চামংচিং চাকমাকে জীবিত উদ্ধারে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।