রফিকুল ইসলাম সুমন – স্টাফ রিপোর্টার উখিয়া। ২৬ মার্চ ২০২৬
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও দূষণ ও জলাবদ্ধতার সমস্যা কাটেনি। রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আসা বর্জ্যে খাল ভরাট হয়ে স্থানীয় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার ৫নং পালংখালী ইউনিয়নের উখিয়ার ঘাট কাস্টম ও তেলীপাড়া এলাকার খালটি দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য দূষণ ও জলাবদ্ধতার সমস্যায় জর্জরিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৭ ও ৮ই থেকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য খালে এসে জমা হচ্ছে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়ে খালটি কার্যত ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। খালে জমে থাকা আবর্জনার কারণে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে দূষিত পানি উপচে পড়ে কৃষিজমিতে প্রবেশ করছে। ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রতিবছরই আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।
এছাড়া দূষিত পানি ও বর্জ্যের কারণে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা আরও জানান, পূর্বে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর অধীনে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বালুখালী-মধুরছড়া খাল সংস্কার করা হয়েছিল। তবে সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। সময়ের ব্যবধানে খালটি আবারও ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে।
তাদের মতে, শুধু খাল খনন করলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা থেকে বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা না গেলে নতুন প্রকল্পও দীর্ঘস্থায়ী সুফল বয়ে আনবে না।
তারা খাল খননের পাশাপাশি সমন্বিত ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, উখিয়ার এই খাল এখন শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়; এটি কৃষি, জনস্বাস্থ্য ও স্থানীয় অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজন পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগ।