তারিখ: শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
মাহবুব আলম মিনার
দেশের নিরাপত্তা ও নাগরিক সেবায় নিয়োজিত থেকে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও বেতন বৈষম্যের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সৈনিকরা। এক সংগৃহীত বক্তব্যে উঠে এসেছে তাদের জীবনযাত্রার কঠোর বাস্তবতা এবং সরকারি চাকরির অন্যান্য সেক্টরের সঙ্গে তুলনাজনিত বৈষম্যের অনুভূতি।
বক্তব্যে বলা হয়, “আমরা সৈনিকেরা ২৪ ঘণ্টার জন্য দায়িত্বে থাকি। ওভারটাইম আছে, কিন্তু তার কোনো বিল নেই। সাপ্তাহিক বা উৎসবের ছুটিতেও সাধারণ মানুষকে নিরাপদ রাখতেই নিজেরা উৎসব বিসর্জন দিতে হয়।”
তারা অভিযোগ করেন, দেশের এক প্রান্তে বাড়ি রেখে অন্য প্রান্তে চাকরি করতে হয়। দীর্ঘ ১৪ বছর চাকরি করে প্রমোশন পেলেও তারা থাকেন ১৬তম গ্রেডে। প্রমোশন পেতে তাদেরকে কঠোর শারীরিক প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া, পি-পরীক্ষা, সার্ভিস বুক ভালো রাখা থেকে শুরু করে চাকরির পাশাপাশি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন পর্যন্ত নানা শর্ত পূরণ করতে হয়।
অন্যদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে সৈনিকদের বক্তব্য—
“আপনারা ১৩তম গ্রেডে সপ্তাহে পাঁচ দিন ক্লাস করেন, বছরের অর্ধেক সময় ছুটি ভোগ করেন, বাড়িতে থেকে পরিবার নিয়ে জীবন কাটান। তারপরও ১০ম গ্রেড দাবি করে আন্দোলনে নামছেন এবং বলছেন— আমাদের টাকায় বাহিনীর বেতন হয়! আমাদের বেতন কার টাকায় হয়? আমরা কি ট্যাক্স দেই না?”
তারা আরও দাবি করেন, শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে বাহিনীর সদস্যদের অতিরিক্ত দায়িত্বও পড়ছে।
“এত সুবিধা পেয়েও যদি শিক্ষকরা ১০ম গ্রেড চাইতে পারেন, তাহলে যারা দেশের মানুষের নিরাপত্তায় প্রতিনিয়ত জীবন বাজি রাখে— তাদের বেতন গ্রেড কত হওয়া উচিত?”
বক্তব্যের শেষ লাইনে সৈনিকদের বেদনাহত অভিব্যক্তি—
“অভাব আমাদেরও আছে, শুধু অভিনয়টা শেখা হয়নি!”