আশরাফ উজ্জামান স্টাফ রিপোর্টার গাইবান্ধা || ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, রবিবার
গাইবান্ধায় গত এক সপ্তাহে পারিবারিক কলহ, আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা ও হত্যাসহ নানান ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। হঠাৎ মৃত্যুর এ ধারাবাহিকতায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ি গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে ফরিদুল ইসলাম তার দ্বিতীয় স্ত্রী শিউলি বেগমকে পা ও গলা কেটে হত্যা করে। একইদিনে পলাশবাড়ীতে শাহিনা বেগম ব্লেড দিয়ে গলা কেটে আত্মহত্যা করেন। সদর উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুল ইসলামের মৃত্যু হয়। এছাড়া সাদুল্লাপুরে একটি পুকুর থেকে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এর আগে শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সুন্দরগঞ্জে দেনমোহর ও ভরণপোষণ মামলার চাপে ফয়েজ উদ্দিন আত্মহত্যা করেন। একই দিনে পারিবারিক অশান্তিতে সোলাইমান মিয়া ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন এবং অবৈধ বৈদ্যুতিক সংযোগের তারে জড়িয়ে যুবক আরিফুল ইসলামের মৃত্যু হয়। সাদুল্লাপুরে বজ্রপাতে নিহত হন সোহাগ মিয়া (২০)।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলায় প্রেমে ব্যর্থ হয়ে স্কুলশিক্ষিকা তাসমিন আরা নদীতে ঝাঁপিয়ে আত্মহত্যা করেন। ১৪ সেপ্টেম্বর একই উপজেলায় বাসচাপায় নিহত হন রিপন মিয়া। ১৩ সেপ্টেম্বর নলডাঙ্গা-বামনডাঙ্গা রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান এক অজ্ঞাত নারী।
অন্যদিকে, ১২ সেপ্টেম্বর সাদুল্লাপুরের নলডাঙ্গায় একটি পুকুর থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার হয়। ৯ সেপ্টেম্বর সাদুল্লাপুরে পানিতে ডুবে মারা যায় শিশু আদুরি আক্তার। আর ৮ সেপ্টেম্বর গোবিন্দগঞ্জ থেকে উদ্ধার হয় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ। একইদিন সুন্দরগঞ্জে বাবার সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে নদীতে ডুবে মারা যায় লাবিব খান লাবু নামে এক কিশোর।
এভাবে এক সপ্তাহে টানা ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।