মাহবুব আলম মিনার | বান্দরবান, ২৯ জুলাই ২০২৬
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জারুলিয়াছড়ি সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে স্থলমাইন বিস্ফোরণে আব্দুল করিম (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে তার বাম পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) জারুলিয়াছড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের ৪৬-৪৭ নম্বর সীমান্ত পিলারের মধ্যবর্তী এলাকা থেকে প্রায় ১০০ মিটার মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গরবিটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এলাকাটি বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন আউং থা পায়া পোস্টের দায়িত্বাধীন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আহত আব্দুল করিম নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জারুলিয়াছড়ি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি মকতুল হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আব্দুল করিম আরও তিনজনের সঙ্গে প্রায়ই মিয়ানমারের অভ্যন্তরে যাতায়াত করতেন। মঙ্গলবারও তারা সীমান্ত অতিক্রম করার পর হঠাৎ একটি স্থলমাইনের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আব্দুল করিম গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরণের পর তার সঙ্গে থাকা অন্য তিনজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত অবস্থায় আব্দুল করিমকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পুঁতে রাখা স্থলমাইনে পা পড়ায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানা এলাকার আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তা মো. কামাল মিয়া বলেন, “আমরা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। আহত যুবককে দ্রুত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, “ঘটনাটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ঘটেছে বলে আমরা জেনেছি। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।”
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এনামুল হাসান বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। সীমান্তবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।”