মোহাম্মদ নুর । কক্সবাজার ৭ জুন ২০২৬
কক্সবাজার শহরের জেলগেট এলাকায় অসহায় নারী পরিচয়ে আশ্রয় নেওয়ার পর আশ্রয়দাতার তিন বছরের শিশুপুত্রকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার পুলিশের দ্রুত অভিযানে অপহৃত শিশুকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত এক নারীকে আটক করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন জেলগেট এলাকায় এক নারী নিজেকে অসহায় ও অভুক্ত দাবি করে স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেনের কাছে সহায়তা চান। তিনি নিজেকে মহেশখালীর বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়ে জানান, কক্সবাজারে তার কোনো স্বজন নেই। মানবিক কারণে সাদ্দাম হোসেন ও তার স্ত্রী সুমি ওই নারীকে খাবার দেন এবং সাময়িকভাবে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, আশ্রয় নেওয়া ওই নারী, যার নাম রংবাহার বলে জানা গেছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরিবারের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। পরে ৫ জুন রাত ৮টার দিকে তিন বছরের শিশুটিকে দোকান থেকে নাস্তা কিনে দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যান। এরপর থেকে শিশুটির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরদিন ৬ জুন শিশুটির বাবা সাদ্দাম হোসেনের মোবাইল ফোনে কল করে অপহরণকারীরা তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবারের দাবি, শিশুর ওপর নির্যাতনের শব্দ শোনানো হলে আতঙ্কিত হয়ে তারা বিকাশের মাধ্যমে ৪২ হাজার টাকা পাঠান। তবে টাকা নেওয়ার পরও শিশুটিকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।
এ ঘটনায় ৭ জুন কক্সবাজার সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগ পাওয়ার পর কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আলীর নির্দেশনায় এসআই রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মহেশখালীর দেবীদার পাহাড়তলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিকেলে অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত নারী রংবাহারকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আটক রংবাহার অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন । তিনি দাবি করেন, কথিত অপহরণচক্রের নেতৃত্বে থাকা কলাতলীর একলাস প্রকাশ পুলিশের দালাল একলাস নামের ব্যক্তির নির্দেশে এ অপহরণ সংঘটিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একলাস সহ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব ঘটনায় রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের পাশাপাশি স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। অপহরণকারীরা কলাতলী, গয়মতলী, ভাঙার মোড়, লিংক রোড, কলেজ গেট, পানেরছড়া, ডেইলাপাড়া এবং মহেশখালীর বিভিন্ন দুর্গম এলাকা ব্যবহার করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অপহরণচক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত গোয়েন্দা তৎপরতা, নিয়মিত অভিযান এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
এদিকে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার এবং অভিযুক্তকে দ্রুত আটকের ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আলী ও এসআই রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন টিমের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, পুলিশের তৎপরতা না থাকলে শিশুটিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়ত। এবিষয়ে সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী সাংবাদিকদের জানান ভিকটিমের পরিবার থানায় অভিযোগ করার পরপর থানা থেকে একটি টিম পাঠিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম চালায় এবং ভিকটিম কে উদ্ধার করে একেই সাথে অপহরণ চক্রের নারী সদস্য কে আটক করতে সক্ষম হয়