নিজস ১ প্রতিবেদক। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে অনুপ্রবেশ করে ছাত্রদলের এক নেতার হামলায় দুই আবাসিক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে হলের ছাদে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত আতিকুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৩–১৪ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর যুগ্ম আহ্বায়ক। ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও তিনি বলপ্রয়োগ করে হলের ৫০০২ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন এবং অনুসারীদেরও নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে ওঠানোর চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হলের নিচে কয়েকজন শিক্ষার্থী বসে থাকাকালে আতিকুর রহমান সেখানে এসে হলে ওঠার কথা বলেন। এ সময় অর্থনীতি বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তৌফায়েল মাহমুদ নিবির তাকে নিয়ম অনুযায়ী প্রভোস্টের মাধ্যমে আসার পরামর্শ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি নিবিরের কলার ধরে চড় মারেন। ধাক্কা দিলে নিবির পড়ে গিয়ে কনুইয়ে আঘাত পান।
এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানালে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী সৌরভ কাব্যকে নাকে ঘুষি মারা হয়। এতে তার নাক ফেটে রক্তপাত শুরু হয়। পরে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সেখান থেকে সরে যান।
শিক্ষার্থীদের দাবি, আতিকুর রহমান ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও চার দিন ধরে হলে সিট দখল করে অবস্থান করছিলেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক নীতিমালার পরিপন্থী। হল প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের অবস্থান নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে বলেও অভিযোগ তাদের।
৫০০২ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার অতিথি হিসেবে কক্ষে ছিলেন। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে বলে তিনি ধারণা করেননি।
এ বিষয়ে কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ ঘটনাটিকে “দুঃখজনক ও অপ্রত্যাশিত” উল্লেখ করে বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার দাবি, গত ১৮ মাসে শুধু ছাত্রদল করার কারণে হলে অবস্থান করার কোনো নজির নেই।
শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রভোস্ট জনি আলম বলেন, তিনি বিষয়টি জেনেছেন এবং হাউস টিউটরদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, ছাত্রত্ব নেই—এমন কাউকে হলে সিট দেওয়ার সুযোগ নেই এবং নিয়ম মেনেই সিট বরাদ্দ দেওয়া হবে।
ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে সাবেক বা বহিরাগত শিক্ষার্থীদের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, সিট বণ্টনে স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তদন্তের ফল ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর সবার।